web counter

ক্রিকেটারদের বাহারি নাম!

আমাদের প্রত্যেকেরই মূল নামের পাশপাশি একটি ডাক (নিক নেম) নাম থাকে। জন্মের পরই মা-বাবাই এ নাম দিয়ে থাকেন। কারো কারো আবার ছদ্ম নামও আছে। কারো আবার মনের অজান্তেই এসব নাম জুড়ে যায়, যা সংশ্লিস্ট ব্যাক্তি নিজেও জানেন না। অনেক সময় এসব আসল নামের চেয়ে ডাক নামেই মানুষ অনেক বিখ্যাত হয়ে উঠে।

ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় পেলেকে আমরা সবাই চিনি। তার আসল নাম এডসন আরানতেস ডো নাসিমেনটো। কিন্তু সারা বিশ্বে তাকে পেলে নামে চিনে। মজার ব্যাপার হলো তিনি নিজেও জানেন না কে রাখল তার এ নাম বা কোথা হতে এল এ নাম।

ক্রিকেটারদের ও এমন কিছু নাম আছে। কিন্তু ডাক নামের সাথে সাথে তারা নানা কারণে বিভিন্ন নাম পেয়েছে। এসব নাম বা উপাধির পিছনে আছে কিছু মজার ঘটনা আছে নানা ইতিহাস। কারোটা বেশ মজাদার, কারোটা বেশ উদ্ভট। কেউ এ নাম পেয়ে বেশ খুশি কেউ বা রাগে ফুঁসে আছেন, কিন্তু মুখ ফুটে কিছুই বলেননি।

পাকিস্তানী ফাস্ট বোলারদের নামের পিছে “এক্সপ্রেস” শব্দটি প্রায় জুড়ে দেওয়া হয়। যেমন তাদের ফাস্ট বোলার ওয়াকার ইউনুস বুরেওয়ালায় জন্মেছিল বলে তার উপাধি হয়ে গিয়াছিল বুরেওয়াল এক্সপ্রেস। একই কারনে তাদের আরেক বোলার শোয়েব আকতারের নাম রাওলপিন্ডি এক্সপ্রেস। তবে এ ক্ষেত্রে ভারতীয় ফাস্ট বোলার কপিল দেবের নামটা কিছুটা ব্যতিক্রম। চন্ডিগড়ে জন্মালেও তার নাম চন্ডিগড় এক্সপ্রেস হয়নি। তিনি “হারিয়ানা হারিকেন” নামে পরিচিত। তাদের আর এক বোলার মদন লাল অবশ্য “পাঞ্জাব মেইল” নামে পরিচিত। একসময় ভারতের অপরিহার্য ব্যাটসম্যান বিনোদ কাম্বলির চেহারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডেসমন্ড হেইন্সের সাথে মিল থাকায় নাম পেয়েছিলেন “ডেইজি”।

ভালই লম্বা কিন্তু সরু পায়ের জন্য অজি বোলার গ্রেন ম্যাকগ্রার নাম ছিল “পিজিওন”। পরর্বতিতে তিনি যেভাবে ব্যাটসম্যানদের প্রান সংহার করেন তাতে তার নাম কবুতর না হয়ে বাজপাখি হলে ভাল হত। তার হালকা পাতলা গড়নের জন্য তার সাউথ ওইয়েলসের টিমমেট তাকে এ উপাধি দিয়েছিলেন।পাকিস্থানের কিংবদন্তি বোলার ওয়াসিম আকরামকে “কিং অব রির্ভার সুইং” বলা হয়। রির্ভার সুইংয়ে তিনি এখন পর্যন্ত সর্বকালের সেরা বোলার। অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ফাস্ট বোলার ব্রুস রিড পরিচিত ছিলেন “থিনবল পেন্সিল” নামে। ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার হালকা পাতলা গড়নের জন্যে তার এ নামকরণ করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিংকে “পান্টার” নামে ডাকা হত। তার সময়ের উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান এডাম গিলক্রিস্টকে বলা হত চার্চি নামে। এই নামের পিছনে একটি মজার কাহিনী আছে ব্লে তিনি জানান। এক তরুণ অটোগ্রাফ শিকারি আমার কাছে এসে বললো, মাফ করবেন এরিক গিলচার্চ, আমি কি আপনার অটোগ্রাফ পেতে পারি? সেই থেকেই টিমমেটরা আমাকে চার্চ ব্লে ডাকে।

এক সময়ের তারকা খেলোয়াড় ও পরর্বতিতে কোচ হওয়া পাকিস্তানী খেলোয়ার জাভেদ মিয়াদাকে ডাকা হয় “বড় মিয়া” নামে।ইনজামামুল হক মোটাসোটা হওয়ার কারণে তার নাম ছিল “বিগম্যান”। যদিও তিনি “আলু” নামেই অধিক পরিচিত। ইংল্যান্ডের এক সময়ের নামি ফাস্ট বোলার ফিলিপ ডেফ্রিটাসের গায়ের রঙ অনেকটা চকোলেটের মতো হওয়ায় সতীর্থরা তাকে ডাকতো ‘হাফ চকোলেট’। হলিউডের তারকা আর্নল্ড সোয়ার্জনেগারের শক্তপোক্ত গড়নের সাথে মিল থাকায় ইংল্যান্ডের গ্রেম হিক পরিচিত হয়েছেন “আর্নি”নামে।৩৭ বলে সেঞ্চুরি করে বিশ্বরেকর্ডধারী শহীদ আফ্রিদী “ওয়ান্ডার বয়” নামে পরিচিতি পেয়েছিলেন।তাকে “বুম বুম আফ্রিদী” নামেও ডাকা হয়।

বাংলাদেশের উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান ছিলেন খালেদ মাসুদের ডাক নাম ছিল পাইলট, ওপেনার ব্যাটসম্যান জাভেদ ওমরের ডাক নাম ছিল গুল্লু। তবে এ নামগুলো পারিবারিক ভাবে পাওয়া।সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজনকে “চাচা” নামে ডাকা হত।

শ্রীলঙ্কার অরবিন্দ ডি সিলভা দৃষ্টি আকর্ষণীয় ব্যাটিংশৈলীর জন্য পেয়েছিলেন ‘ম্যাড ম্যাক্স’ নামটি। ইংল্যান্ডের বব উইলিসকে বলা হতো ‘সোর্ড ফিশ’, অস্ট্রেলিয়ার এক ধরনের মাছির নামে মার্ভ হিউজকে ‘ফ্রুটফ্লাই’ নামে, বিষাক্ত পোকা ‘হহা’র নামে দক্ষিণ আফ্রিকান স্পিনার পল অ্যাডামস পরিচিত। জিম্বাবুয়ের সাবেক অধিনায়ক অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেল ছিলেন ‘টাবি’ (গাধা)। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি বোলার জোয়েল গারনারকে বলা হতো ‘বিগ বার্ড’। অথচ তার স্বদেশী পেসবোলার কার্টলি অ্যাম্ব্রোসকে বলা হতো ‘লিটল বার্ড’। মোটামুটি বিশালদেহী হলেও ক্লাইভ লয়েড ছিলেন ‘সুপারক্যাট’। আর অস্ট্রেলিয়ার মোটাসোটা চেহারার ব্যাটসম্যান গ্রেগ রিচি ছিলেন ‘ফ্যাটক্যাট’। ঘুম-কাতুরে স্বভাবের জন্য ইংল্যান্ডের সাবেক স্পিনার ফিল টাফনেলকে ডাকা হতো ‘দি ক্যাট’ বলে। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক মার্ক টেলরকেও ডাকা হতো ‘টাবি’ (বিড়াল) বলে।
সব নামের পেছনেই যে যুক্তি বা কার্যকারণ আছে, তা কিন্তু নয়। আমরা তো অনেক কিছুই অহেতুক করি বা হয়ে যায়। ডাকনামের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। এটাই হয়ে গেছে অনেকের প্রধান নাম। এই নামগুলো তাই এই সকল মহানায়কদের সাথে বিখ্যাত হয়ে আছে।

About munna

Leave a Reply