web counter

সিক্রেট অব ক্রিকেট

হিস্ট্রি ইজ নট কমপ্লিট উইদআউট স্পোর্টস

কলোসিয়াম ছাড়া রোমান সভ্যতা অসম্পূর্ণ, অলিম্পিক ছাড়া গ্রীসের ইতিহাস অসম্পূর্ণ। কোন দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে খেলাধুলা। যেমন কিউবার কথা বলা যায়, যেখানে পেশা হিসেবে ক্রীড়াকে গ্রহণ করা যায় না। যদিও অলিম্পিকে পদক জয়ের রেকর্ড আছে কিউবান ক্রীড়াবিদদের।

ক্রিকেটের ইতিহাস

ক্রিকেট, অ্যা গেম অব গ্লোরিয়াস আনসার্টেনিটি। ৯৯ এর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের কথা মনে করুন।

প্রাক টেস্টঃ
ক্রিকেট খেলাটি শুরু হয় সম্ভবত ১২৫০ থেকে ১৩৫০ সালের যে কোন সময়ে। ক্রিকেট খেলাটি ছিল সাধারণ পর্যায়ে। ইংল্যান্ডের উচুঁ শ্রেণীর মানুষদের কাছেই এ খেলাটি জনপ্রিয় হয়ে উঠে এবং তারা নতুন রূপ দেয়ার জন্য চিন্তা-ভাবনা করে সপ্তদশ শতাব্দীর দিকে। এ সময় বিভিন্ন ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয় ও বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। ধীরে ধীরে খেলার অগ্রযাত্রা এগিয়ে যেতে থাকে এবং জনপ্রিয় হয়ে উঠে বিভিন্ন দেশে। ১৭২৭ সালে ক্রিকেট লন্ডন ও দক্ষিণ ইংল্যান্ডের একটি প্রধান ক্রীড়া ছিল। ঐ শতাব্দীতে বাজিকরদের আগ্রহের কারণে ক্রীড়াটিতে প্রচুর অর্থলগ্নি করা হয়। ধনী ব্যক্তিদের অনুদানে ও বিনিয়োগে কাউন্টি দল, পেশাদার খেলোয়াড় এবং প্রথম বড় ক্লাবগুলির আবির্ভাব ঘটে। ১৭২৬ সালে লন্ডন ও ডার্টফোর্ড ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্লাব। কেন্ট, মিডলসেক্স, সারি ও সাসেক্সের কাউন্টি দলগুলি ছিল প্রথম সারির ক্রিকেট দল। আর্টিলারি গ্রাউন্ড, ডার্টফোর্ড ব্রেন্ট, কেনিংটন কমন, মুলজি হার্স্ট এবং রিচমন্ড গ্রিন ছিল তখনকার দিনের সুপরিচিত ক্রিকেট মাঠ। ১৬৯৭ সালের আগে সংবাদপত্রগুলিতে ক্রিকেটের কোন উল্লেখ নেই। কিন্তু ১৭২০-এর দশকের মাঝামাঝি নাগাদ ক্রিকেট-সংক্রান্ত রিপোর্ট বাড়তে থাকে। তবে এই রিপোর্টগুলি বহুদিন যাবৎ পূর্ণাঙ্গ ছিল না। আসল খেলার বিবরণের চেয়ে খেলার সময়সূচি কিংবা খেলার উপর বাজির দর নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনাই ছিল এগুলির মূল বিষয়বস্তু।

টেস্টঃ
ক্রিকেট খেলার দীর্ঘতর সংস্করণ যা টেস্ট ক্রিকেট বা টেস্ট ম্যাচ হিসেবে পরিচিত। এছাড়া ক্রিকেট বোদ্ধাদের কাছে ‘আসল ক্রিকেট’ বলে পরিচিত। সাধারণত একে কোন একটি দলের ক্রিকেট খেলার সক্ষমতা যাচাইয়ের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। পূর্বে ৬-দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হতো। পরবর্তীতে তা পাঁচদিনে নিয়ে আসা হয় ও মাঝখানে একদিন বিশ্রাম রাখা হয়। বর্তমানে বিশ্রাম রাখা হয় না। ১৮৭৭ সালে ১৭ মার্চ মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ডের মধ্যকার বিশ্বের ১ম টেস্ট। ক্রিকেটের সবচেয়ে দীর্ঘতম ম্যাচ হল ১৯৩৯ সালের ইংল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকা মধ্যে খেলা ম্যাচটি ১৪ দিন খেলার পর এই ম্যাচটি শেষ টাই হিসাবে ঘোষণা করা হয়।
১৯৩৯ শেষ টাইমলেস টেস্ট, দুই দল ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। সর্বোচ্চ স্কোরঃ ৯৫২/৬ ডিঃ শ্রীলঙ্কা বনাম ভারত, ২ আগস্ট, ১৯৯৭, ১৩৭৪ তম ম্যাচ।

ওয়ানডেঃ
১৯৭১ এ মেলবোর্নে এক টেস্ট ম্যাচের প্রথম তিন দিন বৃষ্টিতে ধুয়ে ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। পরে খেলাটি গড়ায় ৪০ ওভারে। ৮ বলে ওভার। একদিনের মধ্যেই খেলা শেষ করার আইডিয়াটির জন্ম এভাবেই।

টি২০ ক্রিকেটঃ বেনসন ও হেজেজ কাপ নামের ৫০ ওভারের টুর্নামেন্ট ১৯৭২-২০০২ পর্যন্ত ব্রিটিশ কাউন্টি দের ওয়ানডে চ্যাম্পিয়নশিপ টুর্নামেন্ট ছিল যা টোব্যাকো স্পন্সরশিপ এর জন্য চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ২০০৩ এ ইংল্যান্ড কাউন্টি তে চালু হয় প্রথম।

আইসিসিঃ ১৯০৯ সালের ১৫ জুন ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এর প্রতিনিধিগণ লর্ডসে বৈঠকে বসেন এবং ইম্পেরিয়াল ক্রিকেট কনফারেন্স প্রতিষ্ঠা করেন। পরিচালনা পর্ষদের সদস্য কেবল কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মাঝে সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯২৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড ও ভারত পূর্ণ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয় যার ফলে সদস্য দেশের সংখ্যা ৬ এ উন্নীত হয়। ওই বছরই সংস্থাটি মেম্বারশিপে পরিবর্তন আনে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হলে ১৯৫২ সালে টেস্ট খেলার মর্যাদা দেওয়া হয়। ১৯৬১ সালের মে মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা কমনওয়েলথ ত্যাগ করলে, তারা আইসিসির সদস্যপদও হারায়। ১৯৬৫ সালে ইম্পেরিয়াল ক্রিকেট কনফারেন্সের নাম পরিবর্তন করে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কনফারেন্স নামকরণ করা হয়। একই সাথে কমনওয়েলথের বাইরের দেশসমূহের অন্তরভুক্তি অনুমোদন করা হয় যা সংস্থাটির পরিসর বৃদ্ধি করে। পূর্বে কেবলমাত্র টেস্টখেলুড়ে দেশগুলোই এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসময় থেকে এসব দেশের বাইরে অন্য দেশকেও আইসিসি’র সহযোগী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা শুরু হয়। সহযোগী দেশসমূহ অন্তরভুক্তির পর, প্রত্যেক সহযোগী একটি এবং প্রতিষ্ঠাতা ও পূর্ণ সদস্যগণ দুইটি ভোটাধিকার সংরক্ষণ করত। প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের ভেটো প্রদানের ক্ষমতা ছিল। ১৯৮১ সালে শ্রীলংকাকে পূর্ণ সদস্য হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়। ১৯৮৯ সালে নতুন নিয়ম প্রবর্তন করা হয় এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কনফারেন্স পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান নাম ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল এ প্রবর্তিত হয়। বর্ণবৈষম্য অধ্যায় শেষ হওয়ার পর ১৯৯১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা পুনরায় পূর্ণ সদস্য হিসেবে ফিরে আসে। এর পরের বছর ১৯৯২ সালে নবম টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে জিম্বাবুয়ে মর্যাদা লাভ করে। ২০০০ সালে বাংলাদেশ টেস্ট খেলার মর্যাদা লাভ করে। আইসিসির বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১০৬: যার ১০টি পূর্ণসদস্য রয়েছে যারা টেস্টখেলুড়ে, ৩৭টি সহযোগী সদস্য, ৫৯টি স্বীকৃত সদস্য। আইসিসি ক্রিকেটের প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করে, যার মধ্যে ক্রিকেট বিশ্বকাপ অন্যতম। আইসিসি একই সাথে বিভিন্ন টেস্ট ম্যাচ, একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ, আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ম্যাচের জন্য আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারী নিয়োগ দেয়। আইসিসি, সংস্থার কোড অব কন্ডাক্ট মেনে চলে, যা আন্তর্জাতিক ম্যাচের পেশাদারী মান বজায় রাখে। এছাড়া সংস্থার দুর্নীতি-দমন ইউনিট(আকসু) এর মাধ্যমে দুর্নীতি ও ম্যাচ-গড়াপেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আইসিসি সদস্য দেশের মাঝে অনুষ্ঠেয় দ্বিপাক্ষিক সিরিজের(সকল টেস্ট ম্যাচ) সূচি নির্ধারণ করে না। সংস্থাটি সদস্য দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ করে না এবং খেলাটির আইন প্রণয়ন করে না। মেরিলিবন ক্রিকেট ক্লাব খেলাটির আইন প্রণয়নকারী সংস্থা।

বিভিন্ন সরঞ্জাম

মাঠঃ বৃত্তাকার/ ডিম্বকার

পীচঃ ২২ গজ বা ২০.১২ মিটার দৈর্ঘ্য ১০ ফুট বা ৩.০৫ মিটার প্রস্থ। একে উইকেটও বলা হয়। ক্রিকেট খেলায় ৪২টি ক্রিকেট আইন আছে যা বিভিন্ন প্রধান ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে প্রণয়ন করেছে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব। ক্রিকেটের আইনে সময় এর সাথে সাথে সব কিছুর পরিবর্তন হয়েছে শুধুমাত্র একটি আইনের পরিবর্তন হয় নাই সেইটা হলো ক্রিকেট পিচের দৈর্ঘ্যের। পার্থের ওয়াকা গ্রাউন্ড পৃথিবী সবচেয়ে ফাস্ট পীচ। মিরপুরের উইকেট বানানোর সময় বলা হয়েছিল বাংলাদেশের পার্থ হবে। হা হা। হয় নি । বৃষ্টি মন্থর করে দেয় মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট।

ব্যাটঃ ক্রিকেট ব্যাট উইলো গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি হয়। প্রথম উইলো কাঠ দিয়ে বানানো, একেবারেই ক্রিকেট খেলার যে ব্যাটের কথা জানা যায়, সেটি ১৬২৪ সালের কথা। মানে, আজ থেকে প্রায় চারশ’ বছর আগের কথা! তখন অবশ্য ক্রিকেট ব্যাট এখনকার মতো ছিল না; অনেকটা হকি স্টিকের মতোই ছিল। এমনটা চলল আঠার শতক পর্যন্ত। কিন্তু সেই ব্যাট দিয়ে তো আর এখনকার ক্রিকেট খেলা সম্ভব না। পরে তাই ব্যাটের নিচের দিকটা মোটা করা হতে লাগলো। তখন ক্রিকেট ব্যাট ছিল অনেকটা নৌকার বৈঠার মতো দেখতে। ক্রিকেট ব্যাটের কথা আছে আইনের ৬ ধারায় আছে। আইন অনুযায়ী, ক্রিকেট ব্যাট লম্বায় ৩৮ ইঞ্চি আর চওড়ায় সোয়া ৪ ইঞ্চির চেয়ে বেশি হতে পারবে না। ওজন কতো হতে হবে, তা অবশ্য আলাদা করে বলে দেয়া নেই; তবে সাধারণত ১.১-১.৪ কেজির মধ্যেই হয়। (লিলির আলুমিনিয়াম ব্যাট)
বলঃ ক্রিকেট বলের ওজন ১৫৫.৯ গ্রাম থেকে ১৬৩ গ্রামের মধ্যে। অনেকেই বলে বলটা কাঠের তৈরি। আসলে কাঠ না, বলটা কর্কের। এই কর্ক অনেকগুলো ছোট ছোট টুকরা করা। যেগুলো একসঙ্গে জোরে চাপ দিয়ে আটকে রাখা হয়। সেই সঙ্গে সুতা দিয়ে সেলাইও করা হয়। তারপর মুড়িয়ে দেওয়া হয় চামড়া দিয়ে। আর চামড়ার সেলাইটাও করা হয় মজবুতভাবে। তবে এবার কিনা, সেলাইয়ের সঙ্গে সঙ্গে আঠাও লাগানো হয়। যা শেষ পর্যন্ত ক্রিকেট বলকে একটা ধারালো আবহ এনে দেয়। (ককাবুরা, ডিউক, এসজি)

প্যাডঃ ব্যাটসম্যান ও উইকেট কিপাররা পা ঢেকে রাখে । ১৮ শতকের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়।
হেলমেটঃ ব্যাটসম্যান ও উইকেট কিপার আর শর্ট লেগে দাঁড়ানো ফিল্ডাররা ব্যবহার করে।
গ্লাভসঃ ব্যাটসম্যান ও উইকেট কিপার রা পরে।
ক্যাপঃ রোদ থেকে বাঁচার জন্য কপালের উপর ঢেকে রাখা টুপির নামই হয়ে গেছে ক্রিকেট ক্যাপ কারণ এর প্রচলন মূলত ক্রিকেট থেকেই। অস্ট্রেলিয়ার ক্যাপকে ব্যাগি গ্রিন বলে। কাছাকাছি আরেকধরনের ক্যাপ আছে বেসবল ক্যাপ। শচিন ছিল ১৮৭ নাম্বার টেস্ট ভারতীয় খেলোয়াড়। ক্যাপ নাম্বার ১৮৭।

বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট

ব্যাটিং- অতীতের প্রথাগত ব্যাটিং, ধীর, মন্থর তুলনামূলক ভাবে গত দুই দশকের ব্যাটিং অনেক পালটে গেছে। যেমনঃ ওয়ানডে ক্রিকেটে ৮০ র কম বলে সেঞ্চুরি মাত্র ৮৩ টি। এর মাঝে ৯০ সালের আগে ৮ টি, ৯০ থেকে ২০০০ এর মাঝে ৯। ২০০০ এর পরে ৬৬ টি। একদিকে আছে বিশুদ্ধতাবাদি টেকনিক পূজারী, অন্য দিকে বিজয় নিশান উরাচ্ছে গেইল, শেবাগ। সেবাগের ব্যাটিং শুধু হ্যান্ড আই কোঅর্ডিনেশন যেখানে টেকনিকের উপস্থিতি বেশ কম। আর হেইডেন বা গেইল হচ্ছে পাওয়ার হিটিং এর প্রতীক।

বোলিং- মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। পেস বা গতি নিরভর বোলিং ও স্পিন বা বাঁক নির্ভর। দ্রুত গতির বোলারদের মাঝে যারা ৮০-৯০ মাইল গতিতে নিয়মিত বল করতে সক্ষম তাদের ফাস্ট বোলার হিসেবে ধরা যায়। যেমনঃ স্টেইন, ব্রেট লি, মাইকেল হোল্ডিং। আবার কেউ কেউ একটু কম গতি নির্ভর কিন্তু বলের সুইং কাজে লাগিয়ে বোলিং করে তাদের সীমার বা পেস বোলার বলা হয়। স্পিনারদের দুই ভাবে ভাগ করা যায় যারা আঙুল ব্যবহার করে বল ঘুরায় যেমনঃ ওয়ার্ন এরা হচ্ছেন ফিঙ্গার স্পিনার, আবার কবজি ব্যবহার করে যারা বল ঘুরায় যেমনঃ মুরালি তারা, রিস্ট স্পিনার ।

ফিল্ডিং- স্লিপের রিফ্লেক্স, ফাইনলেগ, থার্ডম্যানের অলসতা, পয়েন্টের ক্ষিপ্রতা, মিড অন, মিড অফ, কভারের দৌড়।
উইকেট কিপিং- রিফ্লেক্স, ব্যাটিং।

চেঞ্জ মেকিং শিফট

ক্যারি প্যাকার সিরিজঃ ১৯৭৭ সালে কেরি প্যাকার নামের অস্ট্রেলিয়ান এক ব্যাবসায়ি ক্রিকেটের আমূল পরিবর্তনের সূচনা করেছিলেন। তখনকার দিনেই তিনি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ডকে $১.৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার সেধেছিলেন টেস্ট আর শেফিল্ড শিল্ড ম্যাচের টিভিস্বত্ত কেনার জন্য কিন্তু বোর্ডের “না”! শান্ত শিষ্ট ব্যাবসায়ি এইবার তাদেরকে দেখে নেয়ার ছক আঁকতে লাগলেন আর তার হাত ধরেই “ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেটের’’ গোড়াপত্তন হলো। ৫০ জন বিদ্রুোহী ক্রিকেটারদের নিয়ে নিজেই শুরু করলেন সেই বিখ্যাত “ওয়ার্ল্ড সিরিজ ক্রিকেট’’ টুর্নামেন্টটি। রাতের বেলায় আলোর নিচে, রঙ্গিন কাপড় পড়ে সাদা বলে খেলা প্রথমবারেই বাজিমাত করে দিল। ১৯৭৭ সালের আগে জিবন্ত কিংবদন্তি মাইকেল হোল্ডিং যেখানে প্রতি টেস্টের জন্য পেতেন ২০০ ডলার আর ওয়ার্ল্ড সিরিজে যোগ দেয়ার জন্য ২৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। কেরি প্যাকারের হাত ধরে কিন্তু ক্রিকেট আধুনিক যুগে প্রবেশ করতে পেরেছিল। তিনি খেলোয়াড়দের অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিয়েছিলেন আর সার্বিকভাবে ক্রিকেটকে আরও উপভোগ্য করে তুলতে পেরেছিলেন। ৮০ আর ৯০‘য়ের দশকে ক্রিকেটাররা অনেকটা পেশাদার ছিলেন কিন্তু তারা টাকার জন্য খেলতেন না, খেলতেন নিজের দেশের আর খেলাটাকে মন দিয়ে ভালবাসতেন বলে।
আজকের সময়ে ক্রিকেটের যে বাণিজ্যিক সাফল্য, সাদা বল ও রঙিন পোশাকের ওয়ানডে ম্যাচ, দিবারাত্রির ম্যাচ, বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট লিগের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ইত্যাদি বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে প্রথম হেঁটেছিলেন টনি গ্রেগরা। তাঁদের সেই বিদ্রোহের ফলেই হয়তো আজকের ক্রিকেটকে এই বর্ণিল অবস্থায় দেখার সুযোগ পাই আমরা।
রঙ্গিন পোশাক, সাদা বল, ফ্লাড লাইটের ঝলমলে আলো

আইসিএল থেকে আইপিএলঃ ২০০৭-এ সুভাষ চন্দ্র। এবারও বিশ্বকাপের টিভিস্বত্ব না পেয়ে যে ক্ষোভ জন্মেছিল ভারতীয় সম্প্রচার সংস্থা জিটিভির এই কর্ণধারের তা তিনি উগড়ে দিলেন আইসিএল নামের এক বিদ্রোহী লিগের আয়োজন করে। কিন্তু প্যাকার বিরুদ্ধ পরিস্থিতিকে জয় করেছিলেন চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় আর তিনি ভেঙে পড়লেন সামান্য চাপেই। বিপুল দেনা, চুক্তির নানা বরখেলাপ নিয়ে তাই আইসিএল বন্ধ হয়ে গেল দুই বছরের মধ্যেই। কিন্তু তার ছায়া রয়ে গেল। সেই ছায়া থেকেই জন্ম আইপিএলের। এঁরা দেখলেন আইসিএল বিরোধিতার মুখে পড়েনি বটে কিন্তু বাণিজ্য সম্ভাবনার যে বীজ বুনে দিয়ে গেছে সেদিকে এগোলে দারুণ ফললাভের সম্ভাবনা। তাই ভারতীয় বোর্ডই লেগে গেল এ রকম অর্থকরী টুর্নামেন্টের পেছনে। এখানে প্রতিকূলতার জায়গায় মারাত্মক অনুকূল হাওয়া। অর্থ আর শক্তিকে এক করে তাঁরা এমন ঝড় তুললেন যে সেই ঝড়ে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সংজ্ঞাই পাল্টে গেল।

ক্রিকেট দল

ইংল্যান্ডঃ প্রথম টেস্ট খেলা দল। ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতা হয়নি এখনও। একবার টি২০ বিশ্বকাপ জিতেছে।

অস্ট্রেলিয়াঃ প্রথম টেস্ট খেলা দল। চার বার বিশ্বকাপ জয়ী দল। সাম্প্রতিক কালের অন্যতম সেরা।

সাউথ আফ্রিকাঃ ১৭৯৫ সালে সর্ব প্রথম ব্রিটিশ সেনারা দক্ষিন আফ্রিকার মাটিতে ক্রিকেট খেলে বলে জানা যায়। ১৮০৫ সালে এক প্রতিযগিতা হয় আর্টিলারি মেস অফিসার বনাম কলোনি অফিসার। প্রথম ক্লাব পোর্ট এলজাবেথ ক্লাব যার উদ্যোগে ১৮৭৬ সালে প্রতিযোগিতামূলক আসর বসে। ১২ মার্চ ১৮৮৯ তারিখে টেস্ট স্ট্যাটাস পায়। ১০ মার্চ ১৯৭০ থেকে ১০ নভেম্বর ১৯৯১ পর্যন্ত খেলা বন্ধ ছিল। এই সময় অনেকেই ইংল্যান্ডে গিয়ে সেখাঙ্কার হয়ে খেলেন। টনি গ্রেফ, অ্যালান ল্যাম্ব উল্লেখ করার মত। নিষিদ্ধের আগে ১৯৭০ সালে অস্ট্রেলিয়া কে ৪-০ তে হারিয়ে তাক লাগিয়ে দেয়। তবে কপাল খারাপ। সবগুলো বিসসকাপ ট্র্যাজেডির নামান্তর। স্মিথ, ডোনাল্ড, রোডস, কার্স্টেন, ক্যালিস, ক্লুজনার সহ অনেক গ্রেট প্লেয়ারের উৎস । চাপের মুখে ভেঙ্গে পরে বলে চোকার হিসেবে দুরনাম আছে। হান্সি ক্রনিএর বিপর্যয় কাটিয়ে উতার প্রাথমিক কাজ করে পোলক, কাজ শেষ করে স্মিথ। বরতমানে ভাল ফরমে আছে

ওয়েস্ট ইন্ডিজঃ ৫টি ইংরেজিভাষী ক্যারিবিয় দেশ, ব্রিটিশ উপনিবেশ এবং ব্রিটিশ উপনিবেশবিহীন দ্বীপরাষ্ট্রসমূহের ক্রিকেট দলের অংশগ্রহণ ঘটেছে এতে। ১৮৯০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। তখন তারা সফরকারী ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের বিপক্ষে প্রথম মাঠে খেলতে নামে। ১৯২৬ সালে ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইম্পেরিয়াল ক্রিকেট কনফারেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড বা ডব্লিউআইসিবি যোগদান করে। এরপরই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম আন্তর্জাতিক খেলায় অংশগ্রহণ করে। ১৯২৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল ৪র্থ টেস্টখেলুড়ে দলের মর্যাদা লাভ করে। ইউএসএ এর প্রভাবে বাস্কেটবল, বেসবল এর জনপ্রিওতা বেড়েছে। কালে কালে অসংখ্য গ্রেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে মাঠ মাতিয়েছে। গ্রিফিথ, গিলক্রাইস্ট, হল ষাঠের দশকে, রবার্টস, হোল্ডিং ৭০ এ, পরবর্তীতে গার্নার, মার্শাল, বিশপ, লয়েড, ভিভ, গ্রিনিজ, রোহান কানহাই, লারা রেকর্ড বুকে নাম লিখিয়েছে।
নিউজিল্যান্ডঃ ব্ল্যাক ক্যাপস। ব্রিটিশ কলোনি। ১৮৪২ সালে ওয়েলিংটন ক্লাবের উদ্যোগে প্রথম কেলা শুরু হয়। ১৮৬৪ সালে প্রথম ইংল্যান্ড দল সফর করে আর ১৮৭৭ ও ১৮৮১ সালে অস্ট্রেলিয়া দল নিউজিল্যান্ড সফর করে। ১৮৯৪ সালে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯২৬ সালে আইসিসি সদস্য ১৯২৯-৩০ মৌসুমে টেস্ট স্ট্যাটাস পায়। ১৯৩০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর বিপক্ষে প্রথম জয়। প্রথম টেস্ট জিততে লাগে ২৬ বছর। হ্যাডলি, ফ্লেমিং, কেয়ার্নস অন্যতম সেরা ক্রিকেটার। ৫ বার বিসসকাপ সেমিফাইনাল। অনেক খেলাধুলার সুযোগ থাকায় ক্রিকেট জনপ্রিয়তার শীর্ষে নেই।

ভারতঃ ষষ্ঠ টেস্ট প্লেয়িং দেশ।
১৭২৫ সালে ভারতে পশ্চিম উপকুলে কচ্ছ অঞ্চলে ইংরেজ নাবিকদের মাঝে প্রদর্শনী ক্রিকেটের প্রচলনের খবর পাওয়া যায়। ক্যালকাটা ক্রিকেট ক্লাব ভারতের প্রথম ক্রিকেট ক্লাব ১৭৯২ সালে। তবে তাতে কোন ভারতবাসীর অংশগ্রহণ ছিল না। বোম্বাইতে ১৭৯৭ সালে প্রথম প্রতিযোগিতামূলক খেলা হয়। কলকাতায় প্রথম আসর ১৮০৪ সালে। পারসী দের প্রথম ক্লাব ১৮৪৮ সালে। ১৮৭৭ সালে পার্সিদের সাথে ইংরেজ দের খেলা হল এদেশীয় কোন দলের সাথে ইংরেজদের প্রথম খেলা। ১৮৮৬ তে পার্সিদের এক্তি দল ইংল্যান্ড সফর করে। ১৮৮৮ সালের শেষ দিকে ব্রিটিশ একটি দল উপমহাদেশ সফরে আসে। ১৮৯৩ সালে দ্বিতীয়বার, ১৯০২-০৩ সালে তৃতীয়বার ব্রিটিশ দল ভারতে আসে। ১৯০৭ সালে হিন্দু দল যগ দেয়। ১৯১২ সালে মুসলিম দল যগ দিয়ে চতুর্দলীয় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযগিতা শুরু হয়। এরি মাঝে ১৮৯০ এর দশকে প্রিন্স রণজিৎ সিং এর দাপট ইংল্যান্ডে প্রতিষ্ঠিত হয়। উনার মান রঞ্জি ট্রফি।১৯১১ সালে তৃতীয় ভারতীয় দল ইংল্যান্ড যায়। পার্সি ছাড়াও অন্যান্যরা ছিলেন। পাতিয়ালার মহারাজা ভুপিন্দর সিং অধিনায়ক ছিলেন। ২৩ ম্যাচ খেলেন তারা। ১৯৩৭ সালে অন্যান্য দল বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযগিতায় যগ দেয়। সর্বদলিও রুপ নেয়। ১৯৪৪ সালে ই প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে গান্ধীজী সাম্প্রদায়িকতার অভিযগ আনে। ১৯৪৫ থেকে বন্ধ হয়ে যায়।
১৯২৬ এ এমসিসি ভারতে আসে। ৩১ ম্যাচ খেলে। ১৯২৭ সালে বিসিসিআই প্রতিষ্ঠা। ১৯৩২ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস। ১৯৩২ সালে ভারত একটি টেস্ট সহ ২৫ ইয়াচ খেলার জন্য ইংল্যান্ড যায়। ক্যাপ্টেন ছিলেন পরবন্দরের মহারাজা। তবে টেস্ট ম্যাচে সিকে নাইডু ক্যাপ্টেন ছিলেন। পরাধীন ভারত ইংল্যান্ডের সাথে ১০ টি টেস্ট খেলে।
১৯৩৪ সাল থেকে রঞ্জি ট্রফি শুরু হয়। স্বাধীনতার পর প্রথম ক্যাপ্তেন ছিলেন লালা অমরনাথ যিনি মহিন্দর অমরনাথের পিতা। মহিন্দ্র বাংলাদেশের কোচ ছিলেন।
পাকিস্তানঃ ১৯৫২ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস। প্রথম হোম টেস্ট ম্যাচ ১৯৫৫ সালে জানুয়ারি তে ঢাকায় ভারতের বিপক্ষে। পরের চার টেস্ট ভাওয়ালপুর, লাহোর, পেশোয়ার, করাচী।৫ ম্যাচ ড্র যা একটি রেকর্ড। . ৯২ সালে বিশ্বকাপ জয়ী দল। ৯৯ সালে সেমি ফাইনাল। ইমরান, ওয়াসিম, ওয়াকার, মিয়াদাদ, ইঞ্জামাম, হানিফ মোহাম্মদ, ফজল মাহমুদ, আব্দুল কাদির সহ অনেক গ্রেটদের ভূমি।

শ্রীলংকাঃ এখানে প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেট সর্ব প্রথম খেলা হয়েছিল ১৯২৬-২৭ সনে ম্যারিলিবন ক্রিকেট ক্লাব এর সাথে নোমাডস গ্রাউন্ড, ভিকটোরিয়া পার্ক, কলম্বোতে ইনিংস হারিয়ে।দলটিতে প্রথম বিজয় এসেছিল পাটিয়ালার সাথে দ্রুভ পানডভ ষ্টেডিয়াম এ ১৯৩২-৩৩ সনে সিলন নিজের দিকটা সম্পূর্ন করেছিল এ.জে. গোপালান ট্রফি খেলার মাধ্যমে ১৯৫০ সালে দিকে, শ্রীলংকার নতুন নাম পরিবর্তনের পর ১৯৭০ সালেও। শ্রীলংকান ক্রিকেট দল একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ দিয়ে আবির্ভূত হয় ১৯৭৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপ এ এবং তাদের প্রথম এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে বিজয়ী হয় ভারতের বিপক্ষে যে কিনা জাতীয় ক্রিকেট খেলার দলটি এসেছে ১৯৭৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ এ। শ্রীলংকা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল থেকে ১৯৮১ সালে টেষ্ট এর স্ট্যাটাস পায়। ৯৬ তে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন, ২০০৭ ও ২০১১ তে ফাইনালিস্ট। রানাতুঙ্গা, জয়াসুরিয়া, আতাপাত্তু, ভাস, মুরালি, সাঙ্গাকারা, জয়াবর্ধনে সহ অনেক গ্রেট দের উৎস এই দ্বীপদেশ। মুরালি লঙ্কার এক মিলনের প্রতিক। দলে সে একমাত্র তামিল খেলোয়াড় ছিলেন।

জিম্বাবুয়েঃ রোডেশিয়া যুদ্ধকালীন সময়ে এবং ১৯৪৬ সাল থেকে পুণরায় দক্ষিণ আফ্রিকান টুর্নামেন্ট, কারি কাপে অংশ নেয়। স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৮০ সালে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলায় অংশ নিতে শুরু করে। ২১ জুলাই, ১৯৮১ সালে জিম্বাবুয়ে আইসিসি’র সহযোগী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়। ১৯৮৩, ১৯৮৭ এবং ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নেয়। ৯ম টেস্টখেলুড়ে দেশ হিসেবে জিম্বাবুয়ে ১৯৯২ সালে প্রথম টেস্ট খেলে। হারারেতে অনুষ্ঠিত ভারতের বিরুদ্ধে এ খেলাটি ড্র হয়েছিল।বেশ কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড়দের পদত্যাগজনিত কারণে কয়েকটি টেস্ট সিরিজে বেশ দূর্বল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ২০০৫ সালের শেষ দিকে আইসিসি’র সমর্থনে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ড স্বেচ্ছায় টেস্ট ক্রিকেট থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়। আগস্ট, ২০১১ সালে প্রায় ছয় বছর স্বেচ্ছা নির্বাসন থেকে ফিরে এসে টেস্টভূক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বিপক্ষে অবতীর্ণ হয় ও ১৩০ রানের ব্যবধানে পরাজিত করে।

কেনিয়াঃ ২০০৩ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলা দল।

ওয়ানডে বিশ্বকাপ

ওয়ানডে বিশ্বকাপঃ ১৯৭৩ সালের ২৫ ও ২৬ জানুয়ারি আইসিসির এক সভায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট দল নিয়ে একটি প্রতিযোগিতা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। যা আজকের ‘বিশ্বকাপ ক্রিকেট’। টেস্ট ক্রিকেট শুরুর প্রায় ১০০ বছর পর ওয়ানডে ক্রিকেটের প্রথম আন্তর্জাতিক আসর বিশ্বকাপ শুরু হয়। ১৯৭৫ সালে অনুষ্ঠিত ওই বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। লুনতো প্রথম কোথায় কবে শুরু হয় পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপ? পাঠককুল নিশ্চই হেসে কূল পাবে না। কে না জানে যে ১৯৭৫ সালে ইংল্যান্ডে প্রথম পুরুষদের ক্রিকেট বিশ্বকাপ শুরু হয়। তা না হয় হল। কিন্তু প্রথম কোথায় মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপ কবে আরাম্ভ হয় তা কি জানি? প্রথম মহিলা ক্রকেট বিশ্বকাপ শুরু হয় ১৯৭৩ সালে। আয়োজক দেশ অবশ্যই ইল্যান্ড ও প্রথমবার বিশ্বকাপ জেতে ইংল্যান্ড মহিলা ক্রিকেট দল।

৭৫ এর বিশ্বকাপঃ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রুডেনশিয়াল কাপ। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত। ৮ দেশ। Australia, England, India, New Zealand, Pakistan & West Indies) and Sri Lanka & East Africa। ৬০ ওভারের ম্যাচ। সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ ফাইনাল। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ইয়ান চ্যাপেল টসে জয়ী হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদেরকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান। ৫০ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট পতনের পর রোহন কানহাই এবং ক্লাইভ লয়েড ক্রীজে নামেন। ৪র্থ উইকেটে এ জুটি ১৪৯ রান করে দলকে খেলায় ফিরিয়ে আনে। লয়েড আউট হবার সময় দলের রান হয় ৪/১৯৯। এরপর দলের সংগ্রহ এক পর্যায়ে দাড়ায় ৬/২০৯। তারপর নীচের সারির ব্যাটসম্যানদের কল্যাণে দলটি সর্বমোট ২৯১ রান করে। এ রানের প্রত্যুত্তরে অস্ট্রেলিয়ার গ্রেগ চ্যাপেল ও ইয়ান চ্যাপেল ভ্রাতৃদ্বয় দলকে ২/১১৫ নিয়ে যান। কিন্তু ভিভ রিচার্ডসের সহায়তায় লয়েড কর্তৃক ইয়ান চ্যাপেলের রান আউট হলে এবং ডগ ওয়াল্টার্সের উইকেট হারালে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙ্গে পড়ে। এরফলে অস্ট্রেলিয়া ২৭৪ রানে অল-আউট হয়ে যায় ও ১৭ রানে পরাজিত হয়। ১৭ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিতে। লয়েড ৮৫ বলে ১০২ রান করেন। সাদা পোষাকে মাঠে নামেন। বোলারগণ লাল বল ব্যবহার করেন। সকল খেলাই দিনের বেলা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭৫-এর বিশ্বকাপে ওয়ান ডে ক্রিকেটের অন্যতম ধীরগতির ইনিংসটি খেলেছিলেন সুনীল গাভাস্কার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭৪ বল খেলে তিনি করেন ৩৬ রান!

৭৯ এর বিশ্বকাপঃ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯৭৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ বা প্রুডেন্সিয়াল বিশ্বকাপ, ১৯৭৯ (ইংরেজি: 1979 Cricket World Cup) আইসিসি আয়োজিত বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার ২য় আসর। ৯-২৩ জুন, ১৯৭৯ তারিখে প্রতিযোগিতাটি ২য়বারের মতো ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয়। পূর্বেকার বিশ্বকাপের ন্যায় এ প্রতিযোগিতার ধরণ ও নিয়মাবলী অপরিবর্তিত রাখা হয়। প্রতিটি দল ৬০ ওভারব্যাপী ইনিংসে অংশ নেয়। সনাতনী ধাঁচের সাদা পোষাক এবং লাল বল ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি খেলায়ই দিনের বেলায় এবং খুব সকালে অনুষ্ঠিত হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয় করে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েড এবারো প্রুডেন্সিয়াল ট্রফি হাতে নেবার অধিকার লাভ করেন। দলটি বিশ্বের অন্যতম সেরা দল হিসেবেই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। ১৯৭৯ সালের বিশ্বকাপে কোন ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয় নাই। England (Hosts), West Indies, Canada, India, Pakistan, Sri Lanka, Australia, New Zealand। এ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে গতবারের ন্যায় আবারো ওয়েস্ট ইন্ডিজ অংশগ্রহণ করে। প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড টসে জয়ী হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিংয়ের জন্যে আমন্ত্রণ জানায়। ৩/৫৫ থেকে ৪/৯৯ হবার পর ভিভ রিচার্ডস ও কলিস কিং জুটি ১৩৯ রান তুলে। এতে কিং ৮৬ রান করেছিলেন।[১] রিচার্ডস একপ্রান্তে আগলে রেখে দলের রান সংখ্যা বৃদ্ধি করতে থাকেন। অন্যদিকে নীচের সারির ব্যাটসম্যানেরা সকলেই শূন্য রানে আউট হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত রিচার্ডস ১৩৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮/২৮৬-তে পৌঁছিয়ে দেন।পরবর্তীতে রিচার্ডসের মিতব্যয়ী ০/৩৫ বোলিংয়ে ইংল্যান্ডের শুরুটা ধীরলয়ে ঘটে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানকে ধাবিত করে। কিন্তু ২/১৮৩ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে ১৯৪ রানে অল-আউট হয়ে যায় তারা। এতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ধারাবাহিকভাবে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ক্রিকেটের চ্যাম্পিয়ন হয়। ব্যাটিংয়ে অসামান্য অবদান রাখায় ভিভ রিচার্ডস ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

৮৩ এর বিশ্বকাপঃ ভারত চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটের বিগেস্ট আপসেট। এই বিশ্বকাপের পরপরই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভারতকে ৭-০ ব্যবধানে ভারত সফরে এসে পরাজিত করে প্রতিশোধ নেয়।

৮৭ এর বিশ্বকাপঃ অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়ন। প্রথম তিনটি বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডে হলেও ১৯৮৭ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ ‘বিদেশে’ (ইংল্যান্ডের বাইরে) পাড়ি দেয়। সেবার যৌথভাবে এটি অনুষ্ঠিত হয় ভারত ও পাকিস্তানে।
৯২ এর বিশ্বকাপঃ ১৯৯২ সাল। ওশেনিয়া মহাদেশে প্রথম বিশ্বকাপ আসর বসল। সেই সঙ্গে সৃষ্টি করল এক নবযুগেরও। ক্লাইভ লয়েড থেকে এলান বোর্ডার পর্যন্ত যে যুগের সীমানা ছিল ধবধবে সাদার মধ্যে। তা এখন রঙিন হয়ে গেল। অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে রঙিন পোশাকে প্রথম বল ছুঁড়তে এলেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রেইগ ম্যাকডারমট। প্রথম উইকেটটিও নিয়েছিলেন তিনিই। আর ব্যাট হাতে মাঠে নেমেছিলেন কিউই জন রাইট এবং রড লাথাম। রঙিন বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মার্টিন ক্রোর শত রানের বিনিময়ে বিজয়ী হয়েছিল নিউজিল্যান্ড। তবে সেই বিশ্বকাপ অনেক নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে অর্জন করে নিয়েছিলেন ইমরান খান। সর্বকালের সেরা এই অলরাউন্ডার তার ভাগ্যের সহায়তার পাশাপাশি ওয়াসমি আকরাম, ইনজামামদের মত ক্রিকেটারকেও পেয়েছিলেন বিশ্বকাপ জয় করার জন্য। রঙিন পোশাকের সেই বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মত ব্যবহার করা হয় সাদা বল। দিবা/রাত্রির ম্যাচও শুরু হয় তখন থেকেই।
এ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট পুরস্কারের প্রবর্তন করা হয়। নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলের ব্যাটিং পুরোধা ও সাবেক অধিনায়ক মার্টিন ক্রো ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট পুরস্কারের প্রথম প্রাপক হয়েছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ট্র্যাজেডি। নিউজিল্যান্ড এর গ্রেটব্যাচ পিঞ্চ হিটিং এর জনক।

৯৬ এর বিশ্বকাপঃ শ্রীলংকা । ১৯৯৬ বিশ্বকাপে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে স্বাগতিক দেশের মর্যাদা পায়। প্রতিযোগিতার কোন খেলা আয়োজনের পূর্বেই বিতর্ক তুঙ্গে পৌঁছে। অস্ট্রেলিয়া এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল জানুয়ারি, ১৯৯৬ সালে তামিল টাইগার্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বোমাবর্ষণের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ দল দু’টোর জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রদানের ঘোষণা দেয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল কর্তৃপক্ষও দেশটি নিরাপদ বলে ঘোষণা দেয়। ব্যাপক আলোচনা স্বত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়া এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ নির্ধারিত খেলায় অংশ নেয়নি। ফলে, আইসিসি উভয় খেলায় শ্রীলঙ্কা দলকে বিজয়ী ঘোষণা দেয় ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে দলটি কোয়ার্টার-ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। ভারতে ১৭টি পৃথক স্টেডিয়ামে ১৭ খেলা, পাকিস্তান ৬ স্টেডিয়ামে ১৬ খেলা এবং শ্রীলঙ্কার ৩ স্টেডিয়ামে ৪ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রীলঙ্কা দলের কোচ ডেভ হোয়াটমোর ও অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা প্রথম ১৫ ওভারের ফিল্ডিং সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগাতে ম্যান অব দ্য সিরিজ পুরস্কার বিজয়ী সনাথ জয়াসুরিয়া ও রমেশ কালুবিথারানাকে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে পাঠান। একসময় ৫০ কিংবা ৬০ রানের উদ্বোধনী জুটিকে যেখানে সাফল্যজনক বলা হতো, সেখানে তারা প্রথম ১৫ ওভারে ভারত ও কেনিয়ার বিপক্ষে রান তোলে যথাক্রমে ১১৭ ও ১২৩ রান। এছাড়াও, কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২১ এবং সেমি-ফাইনালে ৮৬ তোলে ভারতের বিপক্ষে।
কেনিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত ৫০ ওভারে শ্রীলঙ্কা ৫ উইকেটে ৩৯৮ রান করে যা একদিনের আন্তর্জাতিকে তৎকালীন সর্বোচ্চ রান ছিল। এপ্রিল, ২০০৬ সালে এ রেকর্ডটি ভেঙ্গে যায়।
চূড়ান্ত খেলায় শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা টসে জয়ী হয়ে ফিল্ডিং নেয় ও অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায়। উল্লেখ্য যে, পূর্ববর্তী পাঁচটি বিশ্বকাপে প্রথমে ব্যাটিংকারী দল বিজয়ী হয়েছিল। ২য় উইকেট জুটিতে মার্ক টেলর-রিকি পন্টিং ১০১ রান তোলেন। পন্টিং ও টেলর আউট হলে দলের রান ৫ উইকেটে ১৭০ হয়। অধিনায়ক মার্ক টেলর দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৪ রান করেন ৮৩ বলে, ৮টি চার ও ১টি ছক্কার মার মেরে। অস্ট্রেলিয়া নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৪১ রান করে।
জবাবে ৪৭তম ওভারেই শ্রীলঙ্কা জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। অরবিন্দ ডি সিলভা ৪২ রানে ৩ উইকেট সংগ্রহের পাশাপাশি অপরাজিত ১০৭ রান করেন ও ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। ক্রিকেট বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্বাগতিক কিংবা সহ-স্বাগতিক দেশের বিশ্বকাপ জয়ের প্রথম ঘটনার সূচনা করে শ্রীলঙ্কা।

৯৯ এর বিশ্বকাপঃ অস্ট্রেলিয়া । দীর্ঘদিন পর ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপের প্রত্যাবর্তন। বাংলাদেশের পাকিস্তান বধ। আফ্রিকা ট্র্যাজেডি, অস্ত্রেলিয়ার অদম্য হয়ে উত্থান। পরে একটানা ১৬ ম্যাচ জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১১ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড ভেঙ্গে দেয়।

২০০৩ এর বিশ্বকাপঃ অস্ট্রেলিয়া। একঘেয়ে অস্ট্রেলিয়ান আধিপত্য।
২০০৭ এর বিশ্বকাপঃ অস্ট্রেলিয়া। একঘেয়ে অস্ট্রেলিয়ান আধিপত্য।
২০১১ এর বিশ্বকাপঃ ভারত। বিপক্ষ ফাইনালিস্ট, শ্রীলংকা।

ক্রিকেটের গ্রেট

গ্রেটনেসের মানদণ্ড কি?
আমার কাছে গ্রেট হচ্ছে যারা নিজেদের সমসাময়িক খেলোয়াড়দের চেয়ে এগিয়ে থাকে।
ডন ব্রাডম্যান: ব্রাডম্যান এর গড় ৯৯.৯৪ এর পরের সর্বোচ্চ গ্রায়েম পোলক এর ৬০.৯৭ ।

একটি ঘটনাঃ ৩৬-৩৭ মৌসুমে এশেজ সিরিজের সময় এডিলেডে এক রাত্রিতে বসে অধিনায়ক ডন কিংবদন্তী স্পিনার বিল ও’রিলি এবং নেভিল কার্ডাসের সাথে সারা সন্ধ্যা আলোচনা করে কাটালেন কি করে বেঁধে রাখবেন ওয়ালী হ্যামন্ডকে সেই পরিকল্পনায়। রাত এগারোটায় বাড়ি ফেরবার সময় নাকি ‘সামান্য কাজ আছে’ বলে গাড়ি থেকে নেমে খানিক ঘুরে এলেন হাসপাতাল। পরদিন ঘোষিত হলো ব্রাডম্যানের শিশুর মৃত্যুসংবাদ। “স্যার ডন খেলার চেয়ে বড়”- অস্ট্রেলিয়ান প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রবার্ট মেঞ্জিস এই উক্তি করে খুব সম্ভব ভুল করেননি। ডনের ক্যারিয়ারের মধ্যগগণে ছায়া ফেলতে এলো ২য় বিশ্বযুদ্ধ। প্রলয়ঙ্করী এই যুদ্ধ কি আরো অনেক কিছুর সাথে নিয়ে গেছে ডনের যাদু ?? সবার মতই এই সংশয় নিয়ে ৪৬-৪৭ এর সিরিজে ব্যাট করতে নামলেন ডন। ২৮ রানে ভোসের বলে স্লিপে আইকিন যা নিলেন ডন বলেন তা ছিলো বাম্প ক্যাচ- যদি ও ইংরেজদের দাবি আম্পায়ার বোরউইকের এই ভুল সিদ্ধান্তেই ডন করেছিলেন ১৮৭- যা তার আত্ববিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়ে ইংরেজদের পোড়ালো ২য় বিশ্বযুদ্ধের পরেও। অন্য অনেক কিছুর মতই টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত শুন্যটিও স্যার ডনের। ৪৮ এর ওভালে শেষ টেস্টে নরম্যান ইয়ার্ডলির নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ব্যাট করতে নামার সময় ব্যাটিং গড় ১০০ করতে স্যার ডনের প্রয়োজন ছিলো মাত্র ৪ রানের, এরিক হলিস নামের অখ্যাত এক লেগ স্পিনার তাকে পোড়ালেন হতাশায়। জীবনে একবার মাত্র হিট আউট হয়েছিলেন স্যার ডন,যা হয়েছিলেন লালা অমরনাথের বলে (যার পুত্র মহিন্দর অমরনাথ ছিলেন বাংলাদেশ দলের প্রথম বিদেশী কোচ।)। ডন জীবনে একবার-ই স্টাম্পড হয়েছিলেন; মজার ব্যাপার হচ্ছে উইকেট ভেঙ্গেছিলেন এক বাঙ্গালী- যার নাম ছিলো প্রবীর মিত্র !!

শচীনঃ শচীনের নাম নেওয়া হয়েছে শচীন দেব বর্মন থেকে। এইটা নিয়ে আমাদের নির্মলেন্দু গুন গর্বিত হয়ে পত্রিকায় লিখেছিলেন। ২০০ টেস্ট, ১৫৯২১ টেস্ট রান, ৫৩ গড়, ৫১ সেঞ্চুরি। ৪৬৩ ওয়ানডে, ১৮,৪২৬ ওডিআই রান, ৮৬ স্ট্রাইক রেট, ৪৯ সেঞ্চুরি। ক্রিকেটের সন্ধিক্ষণের খেলোয়াড়। ৯০ দশকের ক্লাসিক, ওয়ানডের পিঞ্চ হিটিং, টি২০র বদলে যাওয়া আর এ সব কিছুর সাথেই মানিয়ে নেওয়া। জীবনের শেষ ম্যাচে গিলক্রিস্ট গ্যালারি ভরা দর্শকের সামনে বলেছে আজ বুঝতে পারলাম টেন্ডুলকারের প্রতিটি ম্যাচে কি চাপ থাকে।
ভিভ রিচার্ডসঃ দ্য বেস্ট অব থে বেস্ট ইন মডার্ন ক্রিকেট। চুইংগাম চাবাতে চাবাতে ঢোকা, জীবনেও হেলমেট না পরা। কমান্ডিং ক্রিকেটার। উদ্ধত, বেপরোয়া। সিংহের মত বেঁচে থাকা। ১৯৭৬ সালে এক সিরিজে দুই ডাবল সেঞ্চুরি করে ব্রিটিসদের নাকের ডগায় গিয়ে রাজত্ব। ইমরান খান বলেছে আমাকে ভয় পাইয়ে দেয়া একমাত্র ব্যাটসম্যান। যখন স্কোর ৩ উইকেটে ৩০ উনি গিয়ে অবলিলায় লিলিকে চার মারেন। রিচি বেনো র মতে তার একাদশে ৩ নাম্বার জায়গাতে ভিভ আর কাউকে আসতেই দিবেনা। হি ইস অ্যা মার্ডারার অব ক্রিকেট বল। ৭৯ তে অস্ট্রেলিয়া সফরে এক অভারে টানা তিন বাউন্সার দেওয়ার পর আম্পায়ার বোলারকে বলেন দ্যাট ইস এনাফ ফর দিস অভার, ওপার থেকে ভিভ বলেন ডোন্ট স্টপ হিম ম্যাক্স। তার বিয়েতে সারা দেশের মানুষ ভিড় করেছিল।

সোবার্সঃ কমপ্লিট ক্রিকেটার। বোলিং, ব্যাটিং, পেস, স্পিন, ফিল্ডিং। ৩৬৫ রান। বিসস রেকর্ড। ১ মার্চ ১৯৫৮। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লেজেন্ড স্যার গ্যারিফিল্ড সোবার্সের রেকর্ডের দিন। সাবাইনা পার্কে পাকিস্তানের বিপক্ষে করা ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট শতককে আজকের দিনে ৩৬৫ তে নিয়ে যান তিনি। তাও আবার অপারিজত থেকে। ১৯৬৮ সালে ৬ বলে ৬ ছক্কা। পরের বার ১৯৮৫ সালে। রঞ্জি ট্রফিতে তিলক রাজের এক ওভারের প্রতিটি বলই সীমানার ওপারে ফেলেন রবি শাস্ত্রী। পরের দুটি ২০০৭ সালে। টোয়েন্টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যুবরাজ সিং স্টুয়ার্ট ব্রডের প্রতিটি বলেই ছক্কা মারেন। আর হার্শেল গিবসের কীর্তিটি ছিল ওই বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপে
লারাঃ স্টাইল, টেকনিক, ধৈর্য ,টেম্পারামেন্ট, একা ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা, সব মিলে অনন্য একজন। ১৯৯৪ সালে ৫০১ নট আউট রান কাউন্টিতে। ৩৭৫ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ২০০৩ এ হেইডেন ৩৮৫ করেন। ৬ মাস পরে ৪০০। চ্যালেঞ্জ প্রিয় খেলোয়াড়। মুডি খেলোয়াড়। ইন্টারভিউ না দেওয়ার কারন হিসেবে মুড নাই বলতেন।

মনসুর আলী খান পতৌদিঃ ভোপালের নবাব পতৌদি ছিলেন রাজপুরুষ। শক্তি আর সৌন্দর্যের চূড়ান্ত মাপকাঠি। সফল অধিনায়ক। সফল ব্র্যাণ্ড। সফল অভিনেতাও। এমনকী সফল রাজনীতিবিদ ও সাংসদ। শুধু তাই নয়, সংসারের কর্তা হিসেবেও সফল সাইফ আলি খান ও সোহা আলি খানের আব্বাজান। সাসেক্সে আজও লোকগাথার মতো ঘোরে, কী ভাবে ব্যাট করার সময় বাজি ধরে মাঠের পাশে পার্ক করা গাড়িতে বল ফেলতেন পাতৌদি। ওই সময় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর গড় যাচ্ছিল ৮০। শেষ করলেন টেস্ট ক্রিকেটে ৬টা সেঞ্চুরি-সহ মাত্র ৩৪ গড় নিয়ে। সেই সময় টেস্ট ক্রিকেটের ব্যাটিং তাঁর সর্বোচ্চ প্রতিবন্ধকতার সামনে পড়ত। আনকভারড উইকেট। প্রতিরক্ষার সরঞ্জাম না থাকা মাথা। সবুজ পিচ। ভয়ঙ্কর ফাস্ট বোলার। একটা চোখ চলে যাওয়া তাঁর ক্রিকেটের শতকরা ৫০ থেকে ৬০ ভাগ কেড়ে নিয়েছিল। কনট্যাক্ট লেন্স লাগিয়ে শেষ চেষ্টা করেছিলেন। তাতে সমস্যা বাড়ল। আরও বেশি বল দেখা শুরু করলেন। তখন লেন্স খুলে টুপিটাকে সাইড করে ঢেকে দিতেন একটাকে। যাতে ধেয়ে আসা বলের সংখ্যা দুই-ই থাকে। আজকের দিনে অবিশ্বাস্য মনে হবে। অথচ সত্যি। ঐতিহাসিক ভাবে অবশ্য ভারতীয় ক্রিকেট ব্যাটসম্যান নয়, অধিনায়ক পাতৌদিকে মনে রাখবে।

ক্রিকেট ইজ অ্যা মাইন্ড গেমঃ মাইন্ড গেম কেন?
কথা, স্লেজিং, আক্রমণ, দৃষ্টি এই প্রত্যেকটি ফ্যাক্টর খেলাতে ভুমিকা রাখে। ক্রিকেট শুধু শারীরিক খেলাই নয় বরং মানসিক দক্ষতার এক চূড়ান্ত পরীক্ষা।
২০০৩ এর বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তান যখন ২৭৩ তুলে ফেলল, চূড়ান্ত আশাবাদীর পক্ষেও ওয়াকার, আকরাম আর শোয়েব আখতার মতো তারকাখচিত বোলিং লাইন-আপকে সামলে জেতার কথা ভাবা সম্ভব ছিল না। কিন্তু শেওয়াগ-কে নিয়ে যে দাপটের সঙ্গে শচীন সেদিন শুরু করেছিলেন, ৩৫০-৪০০-ও হয়ত কম পড়ত। প্রথম ওভারে আকরামকে দুটো চার মারার পর, দ্বিতীয় ওভারে শোয়েব আখতারকে পয়েন্ট বাউন্ডারির ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেওয়াটা সম্ভবত ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা স্টেটমেন্ট। যেন ৮৬-র মিঁয়াদাদের সেই ছয়টার আদর্শ অ্যান্টিডোট! পরের বলটা স্কোয়ার লেগ দিয়ে চার, তার পরের বল স্ট্রেট ড্রাইভে আবার চার। ভা রত আর ফিরে তাকায়নি সেদিন। ৭৫ বলে ৯৮ করে অবশেষে শচীন যখন প্যাভিলিয়নে ফিরছে, ভারতের জিততে তখনও ৯৮ রান লাগবে। কিন্তু তাঁর ইনিংসটার দাপট ছিল এমনই যে মাঠে উপস্থিত প্রত্যেকে, এমনকি পাকিস্তানের খেলোয়াড়রাও, ধরেই নিয়েছিল ভারত ম্যাচটা জিতেই গেছে!
এখন যেমন কোনো দল পাকিস্তান সফরে রাজি হচ্ছে না, তেমনি নিরাপত্তা শঙ্কায় আগেও ভুগেছে দলগুলো। আশির দশকে পাকিস্তান সফর থেকে ফেরার পর বোথাম তো ঘোষণাই দিয়ে দিলেন, ‘পাকিস্তান এমন একটা দেশ, যেখানে আপনি আপনার শাশুড়িকে পাঠিয়ে দিতে পারেন।’ ইঙ্গিত পরিষ্কার, ব্রিটিশদের জামাই-শাশুড়ির চিরায়ত দ্বন্দ্ব দিয়ে পাকিস্তানের পরিস্থিতি বোঝানো। সেটা ভালোই বুঝেছিলেন পাকিস্তানের আমির সোহেল। প্রতিশোধ নিয়েছিলেন ১৯৯২ বিশ্বকাপের ফাইনালে। প্রতিটা রানের জন্য যুঝতে থাকা বোথামকে গিয়ে বলেছিলেন, ‘তোমার বদলে তোমার শাশুড়িকে ব্যাট করতে পাঠাও। নিশ্চয় তিনি তোমার চেয়ে ভালো করবেন।’

গাঙ্গুলির টস বিলম্ব : ২০০১ সালে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত সিরিজে টসের সময় বরাবরই বিলম্বে উপস্থিত হচ্ছিলেন ভারতের অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ্। অজি অধিনায়ক ওয়াহ্ পরে তার ‘আউট অব মাই কমফোর্ট জোন’ নামে লেখা আত্মজীবনীতে বলেছেন যে, সৌরভ সাতবার টসে দেরিতে হাজির হন। বরাবর

ফাস্ট বোলাররা তাঁদের বলের গতির মতোই উগ্র মেজাজের হয় বলে অধিকাংশ স্লেজিংয়ের জোগান তাঁদের কাছ থেকেই পাওয়া যায়। আবার ফাস্ট বোলারদের খোঁচা দেওয়ার সবচেয়ে মোক্ষম জায়গা হলো তাঁদের বলের গতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা। বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির বোলার ব্রেট লিকে একবার ইনজামাম-উল হক কী বলেছিলেন জানেন? বলেছিলেন, ‘অফ স্পিন করা বাদ দাও।’
ক্রিকেট খেলার মাঠে বা মাঠের বাইরে অনেক কথপোকথন ক্লাসিক হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে। তারই কিছু উদাহরনঃ
ভারতের সুনিল গাভাস্কার সবসময় ওপেনিং এ ব্যাট করতেন৷ কিন্তু একদিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিদ্ধান্ত নিলেন, আজ আর ওপেনিং নয় চার নম্বরে নামবেন৷ কিন্তু শুরুতেই ক্যারিবীয় বোলার ম্যালকম মার্শাল ভারতের দুই ব্যাটসম্যানকে শূন্য রানে আউট করলেন৷ গাভাস্কার যখন ক্রিজের দিকে হাঁটছেন তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভিভ রিচার্ডস বললেন, ”দেখেছ, তুমি যে নম্বরেই ব্যাট করো না কেন, স্কোর শূন্যই থাকে৷”
ইংলিশ ব্যাটসম্যান অ্যালান ল্যাম্বকে বল করার আগে দক্ষিণ আফ্রিকান বোলার অ্যালান ডোনাল্ড হুঁশিয়ার করে দিলেন, ‘ল্যাম্বি, ড্রাইভ করতে চাইলে একটা গাড়ি ভাড়া করো গে, যাও।’ পরের বলেই চমৎকার একটা কাভার ড্রাইভ করেই জবাব দিলেন ল্যাম্ব, ‘যাও, এবার সেটা পার্ক করে এসো।’
আজকাল ব্যাটসম্যানরা মাঠে নামার সময় এত বেশি প্রটেকশন নিয়ে নামে যে আমি পশ্চাদ্দেশ দেখে সবাইকে চিনি। – ব্রায়ান জনস্টন, ধারাভাষ্যকার
আমি সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতির জন্য নিজেকে প্রস্তুত রেখেছি। অবশ্য পরিস্থিতি তার চেয়েও খারাপ হতে পারে। মন্টি পানেসার, ব্রিটিশ-ভারতীয় ক্রিকেটার
একটা টেস্ট ম্যাচে শেন ওয়ার্ন অনেকক্ষণ ধরেই চেষ্টা করছিলেন অর্জুনা রানাতুঙ্গাকে প্রলুব্ধ করতে যাতে তিনি ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন ও শট খেলার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না, রানাতুঙ্গা অবিচল ক্রিজে দাঁড়িয়ে ডিফেন্স করেই যাচ্ছেন। পেছন থেকে তাই ইয়ান হিলি বললেন, ‘ওহে ওয়ার্নি, বলটা যেখানে ফেলছো, সেখানে বরং একটা মারস চকলেট রেখে দাও, তাইলেই হয়তো ভোটকা খাদকটা ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারে!’
তিনি খুব অল্প বয়সেই নিজের প্রেমে পড়েছিলেন এবং এখন পর্যন্ত তার প্রতি বিশ্বস্ত আছেন। জিওফ বয়কট সম্পর্কে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ডেনিস লিলি
ক্রিকেট হলো একমাত্র খেলা, যেটি খেলতে খেলতে আপনার ওজন বাড়ানো সম্ভব। টমি ডর্চারটি, সাবেক স্কটিশ ফুটবলার

ক্রিকেটে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
বোলিংয়ে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং:

হক আইঃ এটি একটি কম্পিউটার সিস্টেম যা বলের গতিপথ প্রদর্শন করে। আমরা সকলেই কিন্তু টিভি তে এই জিনিসটি দেখে অভ্যস্ত। রিপ্লে তে ক্রিকেট পিচের মাঝখানে একটি লম্বা দাগ এবং উপর দিয়ে বলের গতিপথ দেখে আমরাই এখন নিতে পারি ডিসিশন। এলবিডব্লু’র ডিসিশনের জন্য এই প্রযুক্তিটি অনেক কার্যকর ভূমিকা রাখে। “হকআই” সর্বপ্রথম প্রয়োগ করা হয় ২০০১ সালে। মজার ব্যপার হল এই প্রযুক্তিটি তৈরি করা হয়েছিল ক্রিকেট খেলার ধারাভাষ্যকারদের জন্য। পরবর্তীতে নানা বিতর্কের পর থার্ড আম্পায়ারও এই প্রযুক্তিটির অ্যাকসেস পায়।
হটস্পটঃ বল ও ব্যাটের সংযোগ হয়েছে কিনা তা পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। যদি সংযোগ হয় তাহলে অতি স্বল্প মাত্রায় হিট জেনারেট হয়। এই হিট জেনারেট হচ্ছে কিনা তার জন্য ক্রিকেট পিচের দুই মাথায় দুটো ইনফ্রারেড ক্যামেরা সেট করা থাকে। সকল প্রকার ঘর্ষন যেমন বল ও ব্যাট, ব্যাট ও প্যাড, বল ও প্যাড, বল ও গ্লাভস, পিচ ও বল ইত্যাদি।
ডিআরএসঃ
স্নিকো মিটারঃ আশ্চর্যের ব্যপার হলো থার্ড আম্পায়ার এই ডিভাইসের কোন অ্যাকসেস পান না।

ক্রিকেট ও উপমহাদেশ
আমরা উপমহাদেশের লোকজন কেন ক্রিকেটের প্রেমে পরলামঃ
টেস্ট ক্রিকেটের সাথে মহাভারতের যুদ্ধের মিল আছে। সারাদিন যুদ্ধ, সন্ধায় বিরতি, পরদিন আবার যুদ্ধ। ব্রিটিশদের সাথে খাতির জমানোর জন্য, রায় বাহাদুর, খানবাহাদুর খেতাবের জন্য অনেক জমিদার বা ভূস্বামী ক্রিকেট খেলাকে বেছে নেয়। ব্রিটিশ দের বিরুদ্ধে টেক্কা দেবার মত খুব কম অস্ত্রই ছিল আমাদের হাতে। ক্রিকেট ছিল তাদের মাঝে একটি। খেলার মাঠে ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব ভালই কাজ করত। ফলে প্রভুদের হারানোর আকাঙ্ক্ষা থেকেও এই খেলা তখন ছড়িয়ে পরে।
উপমহাদেশের অধিক লোকসংখ্যার কারণে ব্যক্তিকেন্দ্রিক খেলা যেমন দৌড়, হাইজাম্প, সাঁতার এগুলোর চেয়ে বেশি লোক মিলে খেলা যায় এমন খেলা জনপ্রিয়তা পায়।
অন্যান্য খেলার চেয়ে ক্রিকেটে স্টামিনা কম লাগে। ফুটবল, হকি অন্যান্য তীব্র শারীরিক সক্ষমতার খেলায় আমরা ছোটখাটো গড়নের উপমহাদেশীয় মানুষেরা ক্রমাগত পিছিয়ে গিয়ে আরও বেশি ক্রিকেট নির্ভর হয়ে যাই। তাছাড়া ন্যারাচাল ট্যালেন্ট ক্রিকেটে বেশি কাজে লাগে। অন্যান্য খেলার মত টানা অনুশীলন, বিজ্ঞান ভিত্তিক গবেষণা এইসব ফ্যাক্টরের কম প্রভাব ক্রিকেটে উপমহাদেশের শক্তির অন্যতম কারন।
একই দলে একাধিক সাবেক ও বর্তমান অধিনায়ক থাকে যা অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড বা সাউথ আফ্রিকায় কম।

সাবকন্টিনেন্ট এর ব্যক্তিপূজা বনাম পশ্চিমা দল
বিসিসিআই, সিএ, বিসিবি

ক্রিকেটের এই প্রসারের সাথে সাথে অন্য অনেক খেলা উপমহাদেশ থেকে বিলুপ্ত প্রায় কিংবা ধুঁকছে।
অন্যান্য খেলা ধ্বংসঃ

ভারতঃ অলিম্পিকে ৮ বার চ্যাম্পিয়ন প্রথম ১৯২৮, শেষ ১৯৮০, ওয়ার্ল্ড হকিতে ১ বার চ্যাম্পিয়ন(৭৫) ১ বার রানার আপ, আশি সালের পর কোন ট্রফি নাই।
পাকিস্তানঃ অলিম্পিকে ৩ বার চ্যাম্পিয়ন শেষ বার ১৯৮৪, ওয়ার্ল্ড কাপ হকি তে ৪ বার চ্যাম্পিয়ন ৭১, ৭৮, ৮২, ৯৪
বিশ্বনাথন আনন্দঃ ২৮০০ পয়েন্টের রেকর্ড ভাঙ্গা মাত্র ৬ জন খেলয়ারের একজন। ৬ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। ২০০৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত টানা রাঙ্কিং এর শীর্ষে থাকা খেলোয়ার নিজ দেশে অনেক স্থানীয় ক্রিকেটারের চেয়ে কম পরিচিত।
বাংলাদেশঃ ১৯৮৭ সালে বিশ্ব দাবা সংস্থা (ফিদে) নিয়াজ মোর্শেদকে মাত্র ২১ বছর বয়সে গ্র্যান্ড মাস্টারের (জিএম) মর্যাদা দেয় যা তাকে বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার ১ম গ্র্যান্ড মাস্টার এবং এশিয়ার ৫ম গ্র্যান্ড মাস্টার হিসেবে খ্যাতি প্রদান করে। ফুটবলে সালাহউদ্দিন, কায়সার হামিদ, সালাম মুর্শেদি, সাব্বির, সর্বশেষ মোনেম মুন্না

কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা
অ্যাসেজ দ্বৈরথঃ ইংল্যান্ড বনাম অষ্ট্রেলিয়া। দুইদেশের শাসনতান্ত্রিক প্রধান হইলো বৃটেনের রানী এলিজাবেথ-তারা দুইটা দেশই হইলো সাদা চামড়ার। ‘ক্রিকেটের আঁতুড়ঘর’ ইংল্যান্ডে বলেই খেলাটি নিয়ে ব্রিটিশদের অহংবোধের কমতি ছিল না। এমনকি যাদেরকে সঙ্গে নিয়ে তারা টেস্ট ক্রিকেটের জন্ম দিয়েছিল, সেই অস্ট্রেলিয়াকেও খুব একটা গোনায় ধরত না ইংলিশরা। ফলাফল অবশ্য বলত অন্য কথা। ১৮৭৭ সালে প্রথম টেস্ট ক্রিকেট শুরু হওয়ার পর ১৮৮২ সাল পর্যন্ত দুইবার ইংল্যান্ডকে টেস্ট সিরিজে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তবে দুইবারই নিজ দেশের মাটিতে। ইংল্যান্ডে গিয়ে ইংল্যান্ডকে হারানোর সৌভাগ্য তখনো তাদের হয়নি। এবং ব্রিটিশদের অহংবোধের কারণও ছিল সেটা। কিন্তু সব হিসাব পাল্টে গেল ১৮৮২ সালের ২৯ আগস্ট, ওভালে। ব্রিটিশদের সব অহঙ্কার গুঁড়িয়ে দিয়ে ৭ রানে ওভাল টেস্ট জিতল অস্ট্রেলিয়া। প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে সিরিজ জয়। এই হারটা ইংলিশ দর্শক-সমর্থক ও মিডিয়াকে এত বড় ধাক্কা দিল যে, নিজেদের ক্রিকেট দলের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেন সবাই। স্পোর্টিং টাইমস পত্রিকা ব্যাঙ্গ করে রিপোর্ট করেঃ “In Affectionate remembering of english cricket which died at the Oval, 29th AUgust, 1982, Deeply Lamented by a large circle of sorrowing friends and acquiantance RIP. The body will be creamted and the Ashes taken to Australia” ইতিহাস বলছে, ওভাল টেস্টে হারের পরপরই নাকি মাঠে ঢুকে পড়েছিল অসংখ্য দর্শক। রে গে এক নারী সমর্থক নাকি পুড়িয়ে দিয়েছিল স্টাম্প বা বেলস। আর লজ্জায় ডুবে পত্রিকায় একটা শোক সংবাদ লিখে ফেলেছিলেন রেগিনাল্ড শারলি ব্রোকস! লজ্জা পেয়েছিলেন ইংলিশ ক্রিকেটাররাও। পরের সিরিজটা খেলার জন্য ইংল্যান্ডের অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার কথা ছিল ১৮৮৪ সালে। এবং সেই সিরিজের জন্য নির্বাচিত অধিনায়ক ইভো ব্লাই আগে থেকেই ঘোষণা দিলেন, যে ছাইভস্ম অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা ইংল্যান্ডে ফিরিয়ে আনবে তাঁর দল। সিরিজ শুরুর আগেই শুরু হলো ছাইভস্ম বা অ্যাশেজ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা। কথা রেখেছিলেন ইভো ব্লাই। ২-১ ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে কাল্পনিক অ্যাশেজ উদ্ধার করলেন ব্লাই। কিন্তু আভিজাত্য আর শ্রেষ্ঠত্বের এই লড়াইয়ে অ্যাশেজ আর কাল্পনিক থাকেনি, হয়ে উঠেছে ক্রিকেটের সবচেয়ে কুলীন লড়াই। শিরোপা হিসেবে যে ট্রফিটা দেওয়া হয়, সেটাও ছাইদানির মতোই দেখতে একটা রেপ্লিকা।
বডি লাইনঃ আশি বছর আগে ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে যে তীব্র কূটনৈতিক সংঘাত তৈরি হয়েছিল
১৯৩০-এর অ্যাশেজে ১৩৯.১৪ গড়ে ৯৭৪ রান করে ব্র্যাডম্যান একাই ইংরেজদের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ জেতান ২-১ এ। ১৯৩২-৩৩-এর পরের অ্যাশেজে ইংলিশরা ভালোভাবেই বুঝতে পারে, ব্র্যাডম্যানকে থামানো আর অ্যাশেজ জয় একই সুতোয় গাঁথা। ব্র্যাডম্যানকে থামানোর উপায় খুঁজতে গিয়েই জন্ম নিল ক্রিকেটের এক বিতর্কিত ইতিহাসের।
আগের অ্যাশেজেই ব্র্যাডম্যানের লেগ স্ট্যাম্পের লাফিয়ে ওঠা বল খেলতে একটু অসুবিধে হচ্ছিল। সেই সূত্র ধরেই ইংরেজ দলনেতা ডগলাস জার্ডিনের মাথায় এল বডিলাইন বা ফার্স্ট লেগ থিওরি। জার্ডিনের সেই তত্ত্বের প্রয়োগ ঘটান তাঁর দুই ফাস্ট বোলার হ্যারল্ড লারউড ও বিল ভোস। বডিলাইনের ধারণাটি নতুন কিছু না হলেও ১৯৩২-৩৩-এর অ্যাশেজের সাফল্যের নেপথ্যে ছিল ইংরেজ ফাস্ট বোলারদের দ্রুতগতির নিখুঁত ও আগ্রাসী বোলিং।
ইংল্যান্ড ক্যাপ্টেন ডগলাস জার্ডিন মনে করেছিলেন – তিনি ব্র্যাডম্যানের অস্ত্রাগারেও একটা দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছেন। রাস্তাটা অবশ্য বিতর্কিত ছিল, আর বিপদ ঘটার ঝুঁকিও ছিল তাতে।
তিনি তার ফাস্ট বোলারদের বললেন, ব্যাটসম্যানের শরীর লক্ষ্য করে জোরে বল করে যেতে – যে শর্টপিচ বলগুলো পিচে বাউন্স করে ব্যাটসম্যানের মাথার উচ্চতায় চলে আসবে।
আর এই বডিলাইন বল করার জন্য জার্ডিনের সেরা হাতিয়ার ছিলেন নটিংহ্যামের এক কয়লাখনির সাবেক শ্রমিক হ্যারল্ড লারউড – যিনি বল করতে পারতেন সাঙ্ঘাতিক জোরে।
ফার্স্ট লেগ থিওরি বা বডিলাইনের মূল কথা জটিল কিছু নয়। মোদ্দা কথা হলো, ব্যাটসম্যানের শরীর লক্ষ্য করে একের পর এক গোলার মতো বল ছুড়ে দেওয়া। তত্কালীন প্রেক্ষাপটে লেগ সাইডে ফিল্ডারের সর্বোচ্চ সংখ্যা নিয়ে কোনো বিধিনিষেধ ছিল না, ছিল না এখনকার মতো নিরাপত্তা সরঞ্জামের এত ব্যবহার। অতিপ্রয়োজনীয় হেলমেটের প্রচলনই এই ১৯৭০-এর দশকে, এলবো গার্ড, থাই বা চেস্ট গার্ডের প্রচলনও সমসাময়িক সময়ে। সেই অরক্ষণীয় সময়ে লারউড-ভোসরা চার-পাঁচজন ফিল্ডার দিয়ে লেগ সাইডে ব্যাটসম্যানকে ঘিরে ধরে তাঁর শরীর লক্ষ্য করে নিখুঁত লাইন লেনথে ক্রমাগত ছুড়ে গেছেন একেকটি গোলা। শরীরের দিকে গোলার মতো ধেয়ে আসা বলের আঘাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে যেয়েই ব্যাটসম্যান ক্যাচ দিয়ে আসেন কাছেই ওত পেতে থাকা ফিল্ডারকে।
লেগের দিকে প্রচুর ফিল্ডার রেখে বডিলাইন বোলিং – যে ফিল্ডিং সাজানো পরে বেআইনি হয়ে যায়!
ইংল্যান্ড হাতেনাতেই এর ফল পায়। বিল উডফুল-বার্ট ওল্ডফিল্ডরা আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন। ব্র্যাডম্যান দুই দল মিলিয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করলেও তা হয় আগের অ্যাশেজের তাঁর ব্যক্তিগত রানের অর্ধেকের চেয়েও অনেক কম। ইংল্যান্ড সিরিজ জিতে নেয় ৪-১ এ।
ঘন্টায় ৯০ মাইল বেগে ছুটে আসা একটা শক্ত বল জোরে শরীরে লাগলে সেটা শুধু যন্ত্রণাদায়কই ছিল না, ব্যাটসম্যানকে মারাত্মক জখমও করতে পারত! এই নিয়ে তখন থেকেই চলে তর্ক-বিতর্ক। যদিও বডিলাইন বোলিং জার্ডিনের আগেও ছিল, ক্ষীণধারায় বইছে আজও, তবে তা কখনোই ১৯৩২-৩৩-এর মতোন এতটা সাফল্য এবং কুখ্যাতি অর্জন করেনি। পরে বডিলাইন বিভিন্ন আইন দ্বারা নিষিদ্ধও করা হয়। তবে জীবদ্দশায় ভোস তাঁর কৃতকর্মের জন্য কখনোই অনুশোচনা করেননি। তিনি যখন এই বোলিং করেছেন তখন তা আইনবহির্ভূত কিছু ছিল না।
বডিলাইন শব্দটির প্রথম ব্যবহারকারী হিসেবে জ্যাক ওরাল নিজেকে দাবি করলেও খুব সম্ভবত সিডনির সাংবাদিক হাগ বাগিই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম ব্যবহার করেন বডিলাইন শব্দবন্ধটি। তিনি তাঁর সংবাদপত্রে টেলিগ্রামে বার্তা পাঠানোর সময় খরচ কমানোর জন্য ‘ইন দ্য লাইন অব বডি’র পরিবর্তে ‘বডিলাইন’ শব্দটি ব্যবহার করেন, পরবর্তী সময়ে যা দ্রুত পায় অমরতা।
কিন্তু ওদিকে তখন বডিলাইন বোলিংয়ের সেই কৌশলের প্রতিবাদে অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়া আর ক্রিকেট সমর্থকদের মধ্যে বিক্ষোভের ঝড় উঠল। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ান সমর্থকরা দাঙ্গা বাঁধিয়ে দিতে পারেন. এমন আশঙ্কাও দেখা দিল। কিন্তু ম্যাচের সময় সারাক্ষণ ধরে দর্শকদের দুয়ো, ব্যারাকিং হ্যারল্ড লারউডকে এতটুকুও বিচলিত করতে পারেনি, বরং সেটা তাকে আরও তাতিয়ে দিত। তবে ইংল্যান্ড বোলারদের মধ্যে অন্তত একজন, গাবি অ্যালেন কিন্তু ক্যাপ্টেনের নির্দেশ সত্ত্বেও বডিলাইন বোলিং করতে সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন।
ইংল্যান্ড সেই ম্যাচটা জেতার পর অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিল – তারা অ্যাডিলেড থেকে লন্ডনে এমসিসি-র কাছে পাঠালো এক জরুরি টেলিগ্রাম।
তাতে বলা হল, ‘বডিলাইন বোলিং এমন একটা পর্যায়ে গেছে যা ক্রিকেটের স্বার্থের জন্য হানিকর হচ্ছে – ব্যাটসম্যানের জন্য তাঁর শরীর বাঁচানোটাই প্রধান কাজ হয়ে উঠছে।’
অস্ট্রেলিয়ান বোর্ড আরও লিখল, ‘ক্রিকেটারদের মধ্যে এর ফলে চরম তিক্ততার সৃষ্টি হচ্ছে, তারা জখম হচ্ছে। আমাদের মতে এই বোলিং অখেলোয়াড়ি মানসিকতার পরিচায়ক এবং অবিলম্বে এটা বন্ধ না-হলে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বন্ধুত্বের সম্পর্কেও ফাটল ধরবে।’ এই তারবার্তা খবরের শিরোনাম হল উভয় দেশেই। রা জনীতিকরা বিতর্কে জড়ালেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক বন্ধ করার হুমকিও শোনা গেল। শেষে অবশ্য অখেলোয়াড়ি মানসিকতার অভিযোগ অস্ট্রেলিয়া প্রত্যাহার করে নিল, বাকি ম্যাচগুলো আর সিরিজ জিতে দেশে ফিরলেন ডগলাস জার্ডিন। কিন্তু বডিলাইন বিতর্ক টিকলো না – এই ধরনের বিপজ্জনক বোলিং বন্ধ করতে এমসিসি আইন পাল্টাতে বাধ্য হল।
গোটা ঘটনায় অস্বস্তি ঢাকতে ইংল্যান্ড ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ যখন বলির পাঁঠা খুঁজতে লাগল – তখন কিন্তু কোপ পড়ল ক্রিকেটে শ্রমিক শ্রেণীর প্রতিনিধি লারউডের ঘাড়েই, যদিও তিনি স্রেফ ক্যাপ্টেনের নির্দেশই পালন করছিলেন। তাকে বলা হল, ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে চাইলে তাকে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের কাছেই ক্ষমা চাইতে হবে। ক্ষ মা চাওয়ার দাবি জানিয়ে লেখা সেই চিঠিতে লারউড সই করেননি। কোনও দিন আর খেলেননি ইংল্যান্ডের হয়েও।

আন্ডারআর্ম বোলিংঃ বোলার মাথার ওপর থেকে হাত না ঘুরিয়ে কাধের নিচ থেকে যে বল ছুঁড়ে দেন তাই আন্ডারআর্ম বোলিং নামে পরিচিত। কাঁধের নিচ থেকে বলা হলেও কতোটুকু নিচ থেকে আন্ডারআর্ম বোলিং বৈধ তার কোনো পরিমাপ না থাকায় ১৯৮১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি একটা ঘটনার জন্ম দেন বাংলাদেশের সাবেক কোচ ট্রেভর চ্যাপেল। ডাবলিউএমসির ম্যাচ টাই করার জন্য নিউ জিল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল শেষ বলে ছয় রান। স্ট্রাইকিং এন্ডে কিউই ব্যাটসম্যান ছিলেন ব্রায়ান ম্যাকক্যাকনি। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেল তার ছোট ভাই ট্রেভর চ্যাপেলকে বলটি মাটিতে গড়িয়ে (আন্ডারআর্ম বটে!) ছুঁড়তে পরামর্শ দেন।
বোলিং নমুনা দেখে সবাই হতভম্ব হয়ে গেলো। দেশের জয়েও অস্ট্রেলিয়ানরাও খুশি হতে পারেনি। ক্রিকেট বিশ্ব লম্বা ধিক্কার মিছিলের আয়োজন করলো। অস্ট্রেলিয়ার উইকেটকিপার রড মার্শ অবিশ্বাসে মাথা নাড়লেন। হতাশ ব্যাটসম্যান ব্রায়ান ম্যাকক্যাকনি ব্যাট মাটিতে ছুঁড়ে মারলেন। বললেন, এটা একটা ঘৃণ্য অভ্যুত্থান। ইয়ান চ্যাপেল তারই ছোট ভাই গ্রেগ চ্যাপেলকে প্রশ্ন ছুড়লেন: মাত্র ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার অর্জনের জন্য তুমি কয়জন ভাইকে স্যাক্রিফাইস করবে? নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী রবার্ট মুলডুন বললেন, এটা তো কাপুরুষোচিত কাজ। অকল্যান্ডে টি শার্ট বিক্রি হল দেদারসে। যাতে লিখা ছিল : অসি হ্যাড অ্যান আন্ডারআর্ম প্রবলেম (অসিদের আন্ডারআর্ম সমস্যা ছিল)। আর ব্যাটসম্যান ব্রায়ান বললেন, শেষ বলে আমার ছক্কা হাকানোর সম্ভাবনা ছিল হাজারে। এ ঘটনার পরআইসিসি আন্ডার আর্ম বোলিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। আন্ডারআর্ম বোলিং আজ নেই। কিন্তু ক্রিকেট আছে। আইসিসি আছ। অস্ট্রেলিয়ানরা আছে। কিন্তু তাদের আন্ডারআর্ম দুর্নাম মুছে যায়নি। ক্রিকেটে অনেক কিছু ঘটেছে। আরো ঘটবে। কিন্তু বডিলাইনের পর আন্ডারআর্ম বিতর্ক যেন শেষ হবার নয়!

অদ্ভুত
অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ডঃ প্রথম আউটটি দেখা গিয়েছিল ১৯৫১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ড ম্যাচে। ব্যাটসম্যান লেন হাটন ব্যাটের গুতোয় উইকেট কীপার রাসেল এনডেনকে একটি ক্যাচ নেয়া থেকে বঞ্চিত করার দায়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এই আউট হয়েছিলেন। দৈবক্রমে রাসেল এনডেনও এরকম বিরল এক আউটের প্রথম শিকার। তিনি হ্যান্ডল দ্যা বল হওয়া প্রথম ব্যাটসম্যান।
ক্রিকেট মাঠে অ্যালুমিনিয়ামের ব্যাট! তা-ও আবার টেস্ট ক্রিকেটে! ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পার্থ টেস্টে অ্যালুমিনিয়ামের ব্যাট হাতে নেমে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন ডেনিস লিলি। সে সময় এ ধরনের ব্যাট ব্যবহারসংক্রান্ত কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না ক্রিকেটের আইনে। সেই সুযোগ নিয়ে এক বন্ধুর কোম্পানির তৈরি করা অদ্ভুত ব্যাটটা নিয়ে নেমে পড়লেন অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলার। ঝামেলার শুরু লিলির একটি শটে ৩ রান নেওয়া থেকে। অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেলের মনে হলো ওই শট থেকে বাউন্ডারি হওয়া উচিত। তাই তিনি বললেন, লিলিকে একটা কাঠের ব্যাট দিয়ে আসার জন্য। ওদিকে চুপচাপ বসে নেই ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইক ব্রিয়ারলিও। তিনি অভিযোগ করলেন, ওই ব্যাটের জন্যই বলের আকার আর আগের মতো নেই। এ নিয়ে মাঠের মধ্যেই লিলি, ব্রিয়ারলি আর আম্পায়ারদের মধ্যে শুরু হলো তর্ক-বিতর্ক। প্রায় ১০ মিনিট পর চ্যাপেলের জোরাজুরিতে একরকম বাধ্য হয়েই কাঠের ব্যাট নিয়ে খেলা শুরু করলেন লিলি। ওই ম্যাচের কিছু দিন পর কাঠ ছাড়া অন্য কিছুর তৈরি ব্যাট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
ক্রিকেট খেলার কোন গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্তে দুই ব্যাটসম্যানই যখন রানের জন্য মরিয়া, বোলার বল করার আগেই ননস্ট্রাইকার ব্যাটসম্যান পপিং ক্রিজ ছেড়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে থাকেন দৌড়ে ক্রিজ কভার করতে একটু সুবিধা পাবার আশায়। পাড়ার ক্রিকেটে হরহামেশাই দেখা যায় এমন দৃশ্য। বোলারও ঠিক ঠিক বল না করে সরাসরি স্ট্যাম্প ভেঙ্গে দিয়ে শুরু করেন রান আউটের জন্য আম্পায়ারের সাথে যুক্তি-তর্ক। ব্যাটিং দলও মানতে নারাজ। হরহামেশাই না ঘটলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ঘটে এমন ঘটনা। ১৯৪৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়া-ভারত ম্যাচে ভিনু মানকাড় অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার বিল ব্রাউনকে ওই ”পাড়ার ক্রিকেট” স্টাইলে আউট করে ব্যাপারটাকে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় নিয়ে আসেন। বিল ব্রাউনকেই মানকাড় একই ট্যুরে একটা গা-গরম করা ম্যাচেও একই ভাবে আউট করেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়াতে মানকাড়-এর এই ”অখেলোয়াড় সুলভ” আচরণের জন্য সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। এবং এই ঘটনার পর থেকে এই ধরনের আউটকে রান আউটের চেয়ে বরং বলা হয় ”মানকাদ আউট”। পরবর্তিতে আইসিসি এই মানকাদ আউটের প্রবণতা কমাতে আইন কিছুটা পরিবর্তন করলেও ক্রিকেট আইনের ৪২.১৫ ধারা অনুযায়ী মানকাদিং এখনও বৈধ আউট। অনেক ক্রিকেট বোদ্ধাই একে অখেলোয়াড়সুলভ বললেও অনেকেই আবার এর পক্ষে সাফাই গেয়ে গেছেন। এদের মধ্যে আছেন স্বয়ং স্যার ডন ব্রাডম্যানও, যিনি ১৯৪৭ এর সেই টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কও ছিলেন। তার মতে, কেন ভিনু মানকাড়-এর খেলোয়াড়ি মনোভাব নিয়ে গণমাধ্যম প্রশ্ন তোলে তিনি বুঝতে পারেন না। কেননা ক্রিকেট আইন স্পষ্ট করে বলেছে কোন বোলার বল ছাড়ার আগ পর্যন্ত ব্যাটসম্যানকে অবশ্যই ক্রিজে থাকতে হবে। যদি তা নাই হবে, কেন আইনে এমন আউটের সুযোগ রাখা হয়েছে? ক্রিজ থেকে বের হয়ে আগেই এগিয়ে থেকে ব্যাটসম্যান স্পষ্টতই একটা অন্যায্য সুবিধা নিচ্ছে। ব্র্যাডম্যানের কথাতে উদ্বুদ্ধ হয়েই কিনা কে জানে, এর পরেও টেস্ট এবং সীমিত ওভারের খেলা মিলে মোট ৭ বার ঘটেছে এই মানকাদ আউট। এবং এই বিতর্কিত সুবিধা নিয়েছেন কপিল দেব, গ্রেগ চ্যাপেলের মতো খেলোয়াড়রা। তবে এর ব্যাতিক্রমও আছেন। ১৯৮৭র বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের একটা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয়ের জন্য পাকিস্তানের শেষ বলে এক রান প্রয়োজন ছিল। হাতেও ছিল ১টা মাত্র উইকেট। কোর্টনি ওয়ালস তার শেষ বলটি করতে এসে দেখেন ননস্ট্রাইকার ব্যাটসম্যান সেলিম জাফর ক্রিজ ছেড়ে অনেকটা দূর এগিয়ে গিয়েছেন। ওয়ালস জাফরকে আউট না করে বরং সাবধান করে দেন। পাকিস্তানও পররর্তিতে ১ রান নিয়ে জিতে যায় ম্যাচটা। শেষ পর্যন্ত এই জয়েই সেমিফাইনাল খেলে পাকিস্তান, আর দেশের প্লেন ধরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাকিস্তানের ভাগ্যটাই বোধহয় এমন। ২০০৩ সালের মুলতান টেস্টে জয়ের একেবারে বন্দরে ভিরেও শেষ পর্যন্ত পরাজয় বরণ করতে বাংলাদেশকে। বিতর্কিত সেই টেস্টে ইনজামামের অসাধারণ পারফরম্যান্স, রশিদ লতিফ বা অশোকা ডি সিলভাদের ”পারফরম্যান্স”-এর পরও হয়তো জিতে যেতে পারতো বাংলাদেশ। মোহাম্মাদ রফিক সুযোগ পেয়েও উমর গুলকে মানকাদ না করে শুধু সাবধান করে দেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ম্যাচটি হেরে যায় ১ উইকেটে। ২০১২র কমনওয়েলথ ব্যাংক সিরিজে রবিচন্দ্রন আশ্বিন লাহিরু থিরিমান্নেকে মানকাদ আউট করেন। পরবর্তিতে শচিন টেন্ডুলকার এবং ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক বীরেন্দ্র সেহওয়াগ আলোচনা করে সেই আউট প্রত্যাহার করে নেন। ভারত ম্যচটি ৫১ রানে হেরে যায়।
ক্রিকেটের বানিজ্যিকিকরণ
রাজীব গান্ধী ক্ষমতায় এলেন। সাথে সাথে নিয়ে এলেন স্যাম পিদ্রোদা বলে এক আমেরিকা প্রবাসী দেশী প্রযুক্তিবিদ-যিনি ভারতে মিডিয়া এবং টেলিকম বিপ্লব শুরু করেন। প্রথমেই সর্বত্র টিভি রিলে স্টেশন বসানোর কাজ শুরু হয়। ফলে ১৯৮৫ সালের মধ্যে ভারতের গ্রামেও পৌছে গেল রঙীন টিভি।
মনমোহন সিং ১৯৯২ সালে ভারতের বাজার মোটামুটি উন্মুক্ত করে দেন। ফলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট হয়। সুযোগ নেয় পেপসি।
এভাবেই প্রথম দিকের বড় বানিজ্য শুরু হয়।

শচিনের মত খেলোয়াড় যার পিছনে শত কোটি লোকের দৃষ্টি, তার ব্যাটে কোন কোম্পানির স্টিকার নিঃসন্দেহে প্রচারিত টিভি বিজ্ঞাপনের চেয়ে কার্যকর। এই জিনিসটা বুঝে নিতে কর্পোরেট মার্কেটিং এর অভিজ্ঞ এক্সিকিউটিভরা দেরি করেনি।
বড় হাঙ্গামা হয় ভারত তাদের সেরা খেলোয়াড় পাঠাতে গড়িমসি শুরু করে স্পন্সর দ্বন্দ্বে।

আর এখন কোথায় স্পন্সর নেই? মাঠের স্ট্যাম্প থেকে শুরু করে বাউন্ডারির দড়ি, পিচের দুই প্রান্তের নাম, জার্সির বুক পিঠ, সীমানা প্রাচীরের সাথে বোর্ড, ড্রিংক সর্বত্র স্পন্সর। স্পন্সরশিপ চুক্তির তালিকায় কি নেই, জুতা-মোজা থেকে বাউন্ডারির রশি পর্যন্ত সব কিছুই এখন বিকোয়।
আইপিএল কোন বল হওয়ার আগেই কামিয়েছে ২.৩ বিলিয়ন ডলার
আইপিএলঃ কোন বল হওয়ার আগেই ২.৩ বিলিওন ডলার ঢালা হয়েছে।
বাণিজ্যকিকরনের পিছনে অন্যতম প্রভাব আছে যার তিনি হলেন ললিত মোদী।

ললিত মোদীঃ তিনি ১৯৮৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিউক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং এ স্নাতক করেন। বিসিসিআই এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ২০০৫-২০১০। ২০০৫ এ তিনি বোর্ডে যোগ দেওয়ার পর থেকে বিসিসিআই এর আয় ৭ গুন বেড়ে যায়। বিশ্বের খেলাধুলার ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ রেইন মেকার (অর্থ উত্পাদনকারী) হিসেবে গণ্য হন। ক্রীড়া প্রসাশক হওয়ার অল্প দিনের মধ্যেই তিনি নিজের সংগঠনের জন্য চার বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিমাণ অর্থ সংগ্রহে সক্ষম হন। এই সবই তিনি এক সাম্মানিক ক্ষমতার আসনে থেকেই করেন। টেলিগ্রাফ পত্রিকায় মাইক আর্থারটন-এর একটি নিবন্ধে তিনি ক্রিকেটের সব থেকে ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষ হিসেবে বর্ণিত হন। টাইম ম্যাগাজিন এর জুলাই ২০০৮ এর সংখ্যা অনুসারে সেই বছরের বিশ্বের সর্বোত্তম ক্রীড়া কার্য নির্বাহকদের তালিকায় তিনি ১৬ তম স্থানাধিকারী। আন্তর্জাতিক বানিজ্য পত্রিকা বিসনেস উইক এর অক্টোবর ২০০৮ সংখ্যায় ললিত মোদী ২৫ জন বিশ্ব ক্রীড়াবিদ দের মধ্যে ১৯ তম হিসেবে ভোট পান। চুক্তি সমুহঃ
• টিম ইন্ডিয়ার ব্যয়ভার বহনের জন্য সাহারা গ্রুপ-এর সঙ্গে ২০-১২-০৫ -এ ৪ বছরের জন্য ১০৩ মিলিয়ন ডলার (৪১৫ কোটি)-এর চুক্তি।
• টিম ইন্ডিয়ার পোশাক পরিচ্ছদের ব্যয়ভার বহনের জন্য নায়িক-এর সঙ্গে ২৪-১২-০৫-এ ৪ বছরের ৫৩ মিলিয়ন ডলার (২১৫ কোটি)-এর চুক্তি।
• নিম্বাস-এর সঙ্গে ১৮-১২-০৬-এ প্রচার স্বত্ব ৪ বছরের জন্য – ৬১২ মিলিয়ন ডলার-এর চুক্তি।
• জী-এর সঙ্গে ০৭-০৪-০৬ এ বিদেশের খেলাগুলির প্রচার-স্বত্ব ৪ বছরের জন্য – ২১৯ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি।
• ডাব্লিউএসজি এর সঙ্গে বিসিসিআই এর ব্যয়ভার বহনের জন্য ২৮-০৮-০৭ এ ৪৬ মিলিয়ন ডলার (১৭৩ কোটি) – এর চুক্তি।
• শনির সঙ্গে ১৫-০১-০৮ এ আইপিএল প্রচার স্বত্ব-এর জন্য ১.২৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি।
• ২৫-০১-০৮ -এ আইপিএল টিম সেল-এর জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৭২৩.৬ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি।
• ১৮-০৪-০৮ -এ লাইভ কারেন্ট মেডিয়া কে ওয়েব মেডিয়া স্বত্ব প্রদানের জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি।
• মার্চ-এপ্রিল ২০০৮ এর আইপিএল টাইটেল এবং মাঠের ব্যয়ভার বহনের জন্য ২২০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি।
• ২৫-০৩-২০০৯ এ শনি ডাব্লিউএসজি এর সঙ্গে আইপিএল প্রচার স্বত্ব প্রদানের জন্য চুক্তি-মূল্যের ১.২৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ বিলিয়ন ডলার-এ পূনর্নির্ধারণ।
ভবিষ্যতে কেউ যাতে আইপিএলকে টেক্কা দিতে না পারে সেজন্য টুর্নামেন্টটিকে তিনি আইসিসির এফটিপিতে (ফিউচার ট্যুর প্লান) ঢুকিয়ে দিতে পেরেছিলেন। সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে এক্ষেত্রে আবারও হার মানতে হল টাকা ওয়ালা বিসিসিআই এর কাছে। এখন এফটিপির বদৌলতে ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে দুই মাস আইপিএল ছাড়া আর কিছুই নাই। বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ের প্রায় সব খেলোয়াড় আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ডের অধিকাংশ খেলোয়াড়ের কোনও কাজ থাকে না এই সময়ে কারন তাদেরকে আইপিএলের কোনও দল টানেনা। বর্ষার ৪ মাস আর আইপিএলের ২ মাস সব মিলিয়ে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ৬ মাস কোন কাজই থাকে না। এটা বলা যায় যে, ক্রিকেটের বানিজ্যিকরনের কারনে ছোট দেশগুলির ক্রিকেটের স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি বিরাট ক্ষতি হচ্ছে।
বিসিসিআই টাকার গরমে প্রতিবেশী এক দেশকে একঘরে করে রেখেছে, বিপিএলে নিজেদের খেলোয়াড়দের ছাড়ত দেয়নি উল্টো পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের ডাকায় বিসিসিআই উষ্মা প্রকাশ করেছে, শ্রীলংকা বোর্ড প্রধান রানাতুঙ্গাকে বরখাস্ত করতেও তাদের ইন্ধন ছিল। ক্রিকেটে মেরুকরন প্রায় সম্পূর্ণ, বিসিসিআই এর সাথে থেকে হয় কামাও নয়ত একঘরে হয়ে থাকও।
ক্রিকেটার আর মার্সেনারির মাঝে পার্থক্য ক্রমশ কমছে

বাংলাদেশ ও ক্রিকেট
“দিস সেভেন্টিন ইয়ারস ওল্ড শোয়িং ভেরি লিটল রেস্পেক্ট টু দ্য এল্ডার স্টেটসম্যান”- বক্তা ইয়ান বিসপ, সেভেন্টিন ইয়ারস ওল্ড হলেন আমাদের তামিম ইকবাল, এল্ডার স্টেটসম্যান হলেন ভারতের জহির খান (মার্চ ১৭, ২০০৭)
এখন পর্যন্ত আমাদের দেশের খুব কম ব্যক্তিই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশকে এই ভাবে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর এই ভূখন্ড পরিচিত হয় পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে। পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানীয় দল কায়েদে আজম ট্রফিতে অংশ নেয়া শুরু করে ১৯৫৪ সাল থেকে। ১৯৫৫ সালের জানুয়ারি মাসে নবনির্মিত ঢাকা স্টেডিয়ামে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম) প্রথম টেস্ট ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হয় পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে। ১৯৫৫ থেকে ১৯৬৯ সালের মাঝে এই স্টেডিয়ামে মোট ৭টি টেস্ট ম্যাচ খেলা হয়। তবে পূর্ব পাকিস্তানের কোন খেলোয়াড়ের পাকিস্তানের মূল একাদশে খেলার সুযোগ হয়নি। তবে ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে ঢাকায় অনুষ্ঠিত পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড টেস্ট সিরিজে দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে পূর্ব পাকিস্তানের রকিবুল হাসান সুযোগ পান।
মুক্তিযুদ্ধে ক্রিকেটঃ ২৭ এপ্রিল পাকিস্তান ক্রিকেট দল ইংল্যান্ডে পা রাখার পর থেকেই শুরু হয় বাঙালীদের বিক্ষোভ। ৫ মে ফেয়ার হোটেলে পাকিস্তান দলের সম্বর্ধনামূলক এক ডিনারে তারা ঢোকার সময় বাঙালীরা ব্যানার প্ল্যাকার্ড নিয়ে তুমুল বিক্ষোভ জানায়। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয় ২২ জন বাঙালীকে। বার্মিংহাম টেস্টের আগে পাকিস্তান দলের প্র্যাকটিসের বাইরে নিয়মিতই মিছিল করেছেন বাঙালীরা। সবচেয়ে বড় বিক্ষোভটি হয়েছিলো টেস্ট ম্যাচ শুরুর দিন। চার পাঁচটি বাস ভর্তি হয়ে বাঙালীরা মাঠের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেছেন, উড়িয়েছেন স্বাধীন বাংলার পতাকা। পোড়ানো হয়েছে পাকিস্তানের পতাকা। সেই ম্যাচের দিন পাকিস্তানীদের সঙ্গে তাদের তুমুল বিতন্ডা হয়েছে, যদিও সেদিন কোনো হামলা হয়নি।
একই সিরিজে একটি ব্যাটে স্বাক্ষর করেছিলো পাকিস্তান ও ইংলিশ ক্রিকেট দল। লর্ডসে ওই ব্যাটটি নিলামে তোলা হয়েছিলো পাকিস্তানী শরণার্থীদের সাহায্যে। সেই টাকা ইয়াহিয়া সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিলো। সে টাকার ব্যবহার কিসে হয়েছিলো তা জানা যায়নি।
ফ্রাঙ্ক স্ট্যানলি জ্যাকসন হচ্ছেন ইংল্যান্ডের ১৭তম টেস্ট অধিনায়ক। ১৯০৫ সালে তিনি ইংল্যান্ড দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হন। খেলেছেন ২০টি টেস্ট ম্যাচ, যার মধ্যে ৫টি টেস্টে ছিলেন অধিনায়কের ভূমিকায়। ১৮৯৪ সালে হয়েছিলেন উইজডেনের “ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার”। জেনে রাখুন, ফ্রাঙ্ক জ্যাকসন ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯২৭ – ১৯৩২ পর্যন্ত বাংলার গভর্নরের দায়িত্বে ছিলেন।
১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড গঠিত হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রামে ক্রিকেট লীগ শুরু হয়। ১৯৭৪/৭৫ মৌসুমে জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শুরু হয়, জেলা পর্যায়ে প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ লীগ আরম্ভ হয়। ধীরে ধীরে অন্যান্য প্রতিযোগিতা, যেমনঃ শহীদ স্মৃতি ক্রিকেট, দামাল সামার ক্রিকেট, স্টার সামার ক্রিকেট, জাতীয় যুব ক্রিকেট, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা প্রভৃতি শুরু হয়। ১৯৭৬ সালের ডিসেম্বর মাসে এম.সি.সি. প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে খেলতে আসে। ২৬ জুলাই, ১৯৭৭ বাংলাদেশ আই সি সি-র সহযোগী সদস্যপদ লাভ করে। ৭০ দশকের শেষ দিক হতে বাংলাদেশে শ্রীলংকা, ভারত, পাকিস্তান থেকে বিভিন্ন দল ট্যুরে আসতে শুরু করে। এম.সি.সি. বেশ কয়েকবার এদেশে আসে। ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম আই সি সি ট্রফিতে বাংলাদেশ অংশ নেয়। ১৯৮২ সালে অংশ নেয় দ্বিতীয় আই সি সি ট্রফিতে। এতে তারা চতুর্থ স্থান লাভ করে। ১৯৮৬ সালের মার্চে শ্রীলংকায় আয়োজিত দ্বিতীয় এশিয়া কাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করে। এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ তাদের প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে পাকিস্তানের বিপক্ষে। একই বছর তৃতীয় আই সি সি ট্রফিতে অংশ নেয় বাংলাদেশ। ১৯৮৮ তৃতীয় এশিয়া কাপ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়। এই এশিয়া কাপ এ ভেন্যু ছিল ঢাকা এবং চট্টগ্রাম। ১৯৯০ সালে শারজাহতে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলেশিয়া কাপে বাংলাদেশ অংশ নেয়। ঐ বছরই তারা খেলে চতুর্থ আই সি সি ট্রফি। এতে তারা তৃতীয় স্থান লাভ করে। এসময় আই সি সি ট্রফির শীর্ষ দল বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সুযোগ পেত। ‘৯০ এর ডিসেম্বরে বাংলাদেশ চতুর্থ এশিয়া কাপে অংশ নেয়। ১৯৯৪ সালে পঞ্চম আই সি সি ট্রফি হয় কেনিয়াতে। এসময় থেকে নিয়ম করা হয় এই প্রতিযোগিতার সেরা ৩টি দল পরবর্তী বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। কেনিয়ার নাইরোবি জিমখানা মাঠে অনুষ্ঠিত খেলায় বাংলাদেশ স্বাগতিক দলের কাছে হেরে সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়।
১৯৯৭ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় ৬ষ্ঠ আই সি সি ট্রফি। পুরো প্রতিযোগিতা কৃত্রিম টার্ফ বসানো পীচে অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে তৎকালীন অধিনায়ক আকরাম খানের অসামান্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় হল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ক্রিকেটে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ( সেরা ৩টি দল এই সুযোগ পায় )। বৃষ্টি বিঘ্নিত ফাইনালে কেনিয়াকে ১ উইকেটে পরাজিত করে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়। একই বছরে বাংলাদেশকে আই সি সি ওয়ানডে স্ট্যাটাস প্রদান করে। ১৯৯৮ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত একটি ত্রিদেশীয় প্রতিযোগিতায় কেনিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের প্রথম জয় লাভ করে। ঐ বছরের অক্টোবর মাসে সব টেস্ট খেলুড়ে দেশকে নিয়ে বাংলাদেশে আয়োজিত হয় নকআউট ধাঁচের মিনি বিশ্বকাপ।

ম্যাচ পাতানো/ফিক্সিং
‘কালোটাকার’ কৃষ্ণ অধ্যায়। প্রথম দুর্নীতির শিকার মাঠে-বাইরে নিপাট ভদ্রলোক দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক হ্যানসি ক্রোনিয়ে। উপমহাদেশে সাজা পেলেন ভারতের অধিনায়ক মার্জিত রুচির আজহারউদ্দীন আর পাকিস্তানের সেলিম মালিক। পরে বিমান দুর্ঘটনায় ক্রোনিয়ের রহস্যজনক মৃত্যুতে ক্রিকেটজগতে শোকের ছায়া নেমে আসে। অনেকেই হ্যানসকে পুরোপুরি অপরাধী ভাবতে ইতস্তত করতেন।
ক্রিকেটে ম্যাচ-ফিক্সিংয়ের সর্বশেষ ঘটনায় ২০১০ সালে ইংল্যান্ড সফররত পাকিস্তান দলের পুরো ভিত্তি নড়ে যায়। অধুনালুপ্ত ট্যাবলয়েড নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড-এর আড়িপাতা রিপোর্টিং-এর শিকার হয়ে ক্রিকেট থেকে শুধু নির্বাসিত হলেন না অধিনায়ক সালমান বাট, ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ আসিফ এবং আমির- ওরা জেল খাটলেন, জরিমানাও গুণলেন।
ক্রিকেটের এ কেলেঙ্কারি আমিরের মতো একটি সম্ভাবনাময় তরুণের ক্যারিয়ারে যবনিকা টেনে দিল। ১৯ বছর বয়সী এ ফাস্ট বোলারের অনেক দূর যাওয়ার কথা ছিল। অনেক বছর পর বল সুইংয়ে এমন যাদুকরি কাজ দেখা গেল। কিন্তু বাজিকরের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে অন্ধকারে হারিয়ে গেল পিচে সুইং বলের আলো ছড়াতে আসা তরুণ বোলার।

স্পট ফিক্সিং কি?
খুব ছোট ঘটনা যেমন তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলটি বাউন্সার হবে কি না? সম্ভাবনা খুব কম। এইরকম কোন বিষয় খেলার ফলাফলে হয়তো তেমন প্রভাব রাখে না। কিন্তু এই নিয়ে যখন লাখ লাখ ডলার বাজি ধরা হয় তখন তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। কোন বোলারকে যদি রাজি করানো যায় তখন একটি বল পরিনত হয় টাকার খনিতে। যার উপর বাজি ধরে কামানো যায় কোটি কোটি ডলার। সেই একটা বাউন্সার করে যখন কেউ এত টাকা পায় তখন মাথা ঠাণ্ডা রাখা কঠিন বৈকি। সেই সুযোগই নিচ্ছে বাজিকররা।

বিগ থ্রি
১৯৮৩ সালে যে বোর্ডের ইনকাম ছিল দশকোটি টাকাও না ( তখনকার মূল্যে ১০ মিলিয়ান ডলার। উপায় হত শুধু টিকিট বেচে ) , আজ সেই বোর্ডের বাৎসরিক আয় ৫৩০০ কোটি টাকা। কেও কেও বলেন ১২০০ মিলিয়ান ডলার। ত্রিশ বছরে ডলার টার্মে ইনকাম বেড়েছে ১২০ গুন। ডলার টার্মে ইনফ্লেশন এডজাস্ট করলে, দাঁড়াচ্ছে ৫০ গুন বৃদ্ধি গত ত্রিশ বছরে। তুলনামূলক ভাবে ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া বোর্ডের বৃদ্ধি নেহাৎ অকিঞ্ছিৎকর। শুধু তাই না। আইসিসির অর্থের অধিকাংশ জোগান আসে ভারতের টিভি সত্ত্ব থেকে। পাকিস্তানের অবস্থা এতটাই খারাপ, তাদের বোর্ডের ৮০% টাকা আসতে ভারতের সাথে খেলাগুলির টিভি সত্ত্ব থেকে। মুশকিলের সূত্রপাত এখানেই। একটা দৈত্যেকে যদি ক্রমাগত খেতে দেওয়া হতে থাকে, তার চাহিদা বাড়বেই। এইভাবে ভালোই চলছিল ভারতীয় বোর্ডের। তারাও আই সি সিতে গুন্ডামি করতে যায় নি। কারণ ভাল খেতে পড়তে পেলে, কে আর ঝামেলা করতে চাইবে? সবদিন ত আর সমান যায় না! ভারতের অর্থনীতিতে টান ধরতেই বোর্ডের লোকেদের টনক নড়ল এই অর্জিত ক্ষমতা দিয়ে, কলকাঠি নড়িয়ে কিভাবে উপায় বাড়ানো অব্যাহত থাকে। কিন্ত বোর্ডের ইনকাম কমবে কেন বা এই ধরনের হঠকারিতার কারন কি? ভারতীয় বোর্ড কর্তা শ্রীনিবাসন ঘাঘু মাল। উনি ক্রিকেট ধ্বংস করেও ব্যবসা টেকাতে চান। কেন উনি শঙ্কায় ভুগছেন? কারনটা একটু গভীরে বোঝা দরকার। সেই ১৯৮৫ সাল আর নেই যে বিজ্ঞাপন দিতে টিভিতেই যেতে হবে। এখন রিটেল মার্কেটিং এর অনেক উপায়। ভারতে সব থেকে বেশী টাকা যাচ্ছে মোবাইল মার্কেটং এ। মোবাইল টিউন, এস এম এস বিজ্ঞাপন অনেক সস্তা এবং তার থেকে রিটার্ন অনেক বেশী। ফলে সর্বত্র কমছে টিভির ইনকাম। এর ওপর সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এ অনেক বাজেট চলে যাচ্ছে। কোম্পানীর মার্কেটিং বাজেট ফিক্সড। এবং এটা পরিক্ষিত সত্য মোবাইল মার্কেটিং বা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং অনেক বেশী কার্যকরী টিভি বিজ্ঞাপনের থেকে। আর ভারতের ক্রিকেট বিজ্ঞাপনের হার এত বেশী-ওই টাকা দিয়ে অনেক বেশী মোবাইল ক্যাম্পেন চালানো যায়।অর্থাৎ সোনার ডিম পাড়া হাঁসটা আস্তে আস্তে আর ডিম পাড়বে না। সুতরাং এখন ইনকাম বাড়নোর উপায় আই আই সির কাছে নিজের হকটা বাড়ানো। কিন্ত সেটার সাথে কেন টেস্ট ক্রিকেটে দ্বিতীয় ডিভিশন চালু করতে হল? আই সি সির কাছে নিজের হকটা বাড়ালে কেও কিছু সাড়াশব্দও করত না, ছোট্ট একটা নিউজ আসত মিডিয়াতে। কিন্ত এই গোলমেলে দ্বিতীয় ডিভিশনটা চালু করার প্রস্তাব কেন রাখল ভারত, ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার বোর্ড? এটার পেছনেও তারা মার্কেটের যুক্তি দেখাচ্ছেন। আই সি সির বর্তমান আইন অনুযায়ী সব টেস্ট খেলিয়ে দেশকেই সব দেশের সাথে খেলতে হয়। এদের বক্তব্য বাংলাদেশ বা জিম্বাওয়ের সাথে এদের খেলা থাকলে টি আর পি ওঠে না-ফলে বোর্ডের ঘরে টাকা আসে না। অতএব এদেরকে বাদ দেওয়ার জন্য একটা স্কিম কর।
– আইসিসিকে ভারত চার দফা দাবি দিয়েছে।
– দাবি মানা না হলে ভারত আইসিসি থেকে বের হয়ে যেতে পারে।
কি সেই চার দফা দাবি (সংক্ষেপে): ১) আইসিসি-র আয় থেকে ভারতকে আরও বেশি ভাগ দিতে হবে। ২) আইসিসি প্রেসিডেন্ট পদের পাশাপাশি চেয়ারম্যানের পদ তৈরি করতে হবে। ৩) তিন বছর অন্তর ভারতে কোনও আইসিসি টুর্নামেন্ট দিতে হবে। ৪) ভারত-অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডকে অনেক বেশি ক্ষমতা দিতে হবে বাকিদের তুলনায়।

চার দফা দাবির বিস্তারিত:
১) গত পনেরো বছরের হিসেব ধরলে দেখা যাচ্ছে, আইসিসি-র আয় দিন দিন বাড়ছে। এবং সেটা সম্ভব হচ্ছে ভারত-ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার জন্যই। মুখ্যত ভারতের জন্য। ২০০০ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত যেখানে আইসিসি-র আয়ের পরিমাণ ছিল ৫৫০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা), সেখানে গত কয়েক বছরে অঙ্কটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.৫ বিলিয়ন ডলার (ন’হাজার কোটি টাকার উপর)। -আইসিসি-র আয় এত বেড়ে গেলেও ভারতীয় বোর্ডের শেয়ার কিছু বাড়েনি। আর পাঁচটা পূর্ণ সদস্য দেশ যা টাকা পায়, ভারতও তাই পায়। আরও পরিষ্কার করে বললে, আইসিসি থেকে জিম্বাবোয়ে-বাংলাদেশ যা টাকা পায়, ভারত-ইংল্যান্ডও তাই পায় মোট আয়ের শতকরা ২৫ শতাংশ। শ্রীনিবাসনদের দাবি, অবিলম্বে ভারতের লভ্যাংশ বাড়াতে হবে।
২) আইসিসি প্রেসিডেন্টের সমান্তরাল ভাবে একটা চেয়ারম্যান পদও তৈরি করতে হবে। চেয়ারম্যানের ক্ষমতা থাকবে প্রচুর। প্রায় প্রধানমন্ত্রীর মতো। আর আইসিসি প্রেসিডেন্ট, যে পদে ডালমিয়া বা পওয়াররা ছিলেন, সেটা হয়ে যাবে ভারতের রাষ্ট্রপতি পদের মতো। আলঙ্কারিক। শ্রীনিবাসন চাইছেন, প্রথম চেয়ারম্যান পদে তিনিই বসবেন।
৩) প্রতি তিন বছর অন্তর ভারতে কোনও আইসিসি টুর্নামেন্ট দিতে হবে। সেটা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হতে পারে। পঞ্চাশ ওভারের এক দিনের বিশ্বকাপ হতে পারে। আবার টেস্ট ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপও হতে পারে।
৪) ভারত-অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডকে বাকিদের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষমতা দিতে হবে। আইসিসি-র ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম ঠিক করার সময় এই তিন দেশের ইচ্ছেকে গুরুত্ব দিতে হবে।

আইসিসির টাকার প্রতি ভারতের লোভের কারণ:
ভারতীয় বোর্ড এমনিতেই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট সংস্থা। তারা আরও অর্থের জন্য লোলুপ কেন? ওয়াকিবহাল মহলের খবর, এর পেছনে ক্রিকেটের রেটিং দিন দিন কমা। ভারতীয় দল ইদানীং যে ক’টা স্পনসরশিপ পেয়েছে, সব অতীতের চেয়ে কম টাকার। কোনও কোনও ক্ষেত্রে সিরিজ স্পনসরশিপ শতকরা পঞ্চাশ ভাগ কম টাকায় বিক্রি হয়েছে। সচিন তেন্ডুলকর অবসর নেওয়ার পর টেস্ট সিরিজের আকর্ষণ গিয়েছে আরও কমে। অর্থনৈতিক অবস্থা আরও বিপন্ন হতে পারে বিবেচনাতেই শ্রীনিবাসন এই নতুন চাল চেলেছেন। যে আইসিসি থেকে বাড়তি লভ্যাংশ পাওয়া গেলে এই ঘাটতিটা মেরামত করা যাবে।
ক্রিকেটের তিন নব্য ‘জমিদার’-এর বিতর্কিত প্রস্তাবটি ;

টেস্ট ক্রিকেটে দুটো ডিভিশনে ভাগ করার পরিকল্পনা:
দর্শক উৎসাহ ফেরাতে টেস্ট ক্রিকেটে অবনমন চালু করার মতো বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে আইসিসি!
টেস্ট ক্রিকেটকে দু’টি টিয়ারে ভাগ করার চিন্তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নাড়াচাড়া শুরু হয়েছে। এতে পাঁচ দিনের খেলাটা ঘিরে নতুন আকর্ষণ তৈরি হবে বলেই মনে করছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। পাশাপাশি, টেস্ট ক্রিকেটকে আয়ারল্যান্ড বা আফগানিস্তানের মতো অ্যাসোসিয়েট দেশের নতুন সীমানায় ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে। চলতি মাসের শেষে আইসিসি-র এক্সিকিউটিভ বোর্ডের বৈঠকে এই নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চাইছে আইসিসি।
তবে অবনমন চালু হোক বা না হোক, আইসিসি-র ওই বৈঠকে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অকালমৃত্যু ঘটে যাবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞ মহলের। এর প্রধান কারণ, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সম্প্রচার করায় টিভি চ্যানেলগুলির আগ্রহের অভাব। এর সঙ্গে কী ফরম্যাটে খেলা করা হবে, সেটা নিয়ে এখনও নির্দিষ্ট কোনও রূপরেখা না থাকায় চিন্তাটা পাকাপাকি বাতিলই করতে চাইছে আইসিসি। আগে ঠিক ছিল ২০১৩ থেকে শুরু হবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। গত অক্টোবরে যে তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয় ২০১৭ পর্যন্ত। কিন্তু এখন বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে টেস্ট ক্রিকেটে ‘রেলিগেশন অ্যান্ড প্রমোশন’-এর উত্তেজনা আমদানি করাতেই বেশি আগ্রহী আইসিসি।
নতুন এই নিয়ম চালু হলে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে নীচের দিকে থাকা দেশগুলির বিরুদ্ধে পারফরম্যান্সের জোরে টেস্ট খেলিয়ে তালিকায় উঠে আসার সুযোগ থাকবে আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান বা কিনিয়ার মতো আইসিসি-র অ্যাসোসিয়েট সদস্যদের সামনে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ বা জিম্বাবোয়ের মতো টেস্ট খেলিয়ে দেশ পারফর্ম করতে না পারলে নেমে গিয়ে টেস্ট খেলার যোগ্যতা হারাবে।
তবে অন্য জটিলতা এড়াতে রাখা হবে একটি ‘নো ডিসঅ্যাডভানটেজ’ শর্ত। যার মানে, অবনমনের ফল যা-ই হোক, আইসিসি-র পূর্ণ সদস্য দেশগুলির সদস্যপদ বা আর্থিক সুযোগসুবিধায় তার প্রভাব পড়বে না।
টেস্ট ক্রিকেটে প্রমোশন বা রেলিগেশন ঠিক কী ভাবে হবে সেটা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। টেস্ট ক্রিকেটকে প্রথম এবং দ্বিতীয় ডিভিশনে ভাগ করার চিন্তাভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।
অনেকে আবার মনে করছেন প্রথম ডিভিশনে টেস্ট খেলার জন্য বিশেষ আর্থিক পুরস্কার বা ইনসেনটিভ চালু হলে আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টের সঙ্গে তুলনায় টেস্ট ক্রিকেট অনেক বেশি প্রসঙ্গিক হয়ে উঠবে। প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভন যেমন বলেছেন, “ফুটবলের প্রিমিয়ার লিগের মতো যদি টেস্টেও প্রথম ডিভিশনে খেলায় বাড়তি টাকা থাকে, তা হলে ক্রিকেটাররা আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টের দিকে কম ঝুঁকবে।”
এই সব নতুনত্ব চিন্তার পাশে টেস্টের এক নম্বর দলের জন্য পুরস্কার অর্থের অঙ্ক বাড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। আসন্ন বৈঠকে যা অনুমোদিত হয়ে যেতে পারে। সঙ্গে ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম নিয়ে কড়াকড়ি কমানোরও পক্ষে আইসিসি।

শেষ কথাঃ
ব্রায়ান লারার শেষ প্রশ্নঃ “ডিড আই এন্টারটেইনড ইউ” এটাই যেন শেষ পর্যন্ত সত্য। দিন শেষে ক্রিকেট কোন জীবন মরনের প্রশ্ন নয়। ক্রিকেট একটা খেলা যার সাথে উচ্চারিত হয় স্পিরিট অব ক্রিকেট। যার সাথে জড়িত আছে নির্মল বিনোদন আর তুখোড় স্কিল এর প্রদর্শনী। ক্রিকেট ছিল, আছে, থাকবে।
অপেক্ষায় আছি এই খেলায় বাংলাদেশ একদিন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে সেই দিনের।

About munna

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *